চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে রেলযাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ নিন

| শুক্রবার , ৩১ জুলাই, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সড়কপথে যানজট, দুর্ঘটনার শঙ্কা, বাড়তি ভাড়া, সময় বাঁচানোসহ নানা ভোগান্তি এড়াতে মানুষ রেলের প্রতি সবসময় আগ্রহী। এই আগ্রহের কারণে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন নতুন রুট চালু হয়েছে। নিরাপদ ও স্বস্তিতে যাতায়াতের জন্য ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় যাত্রীসেবা বৃদ্ধি পায় নি। গত ২৯ জুলাই দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রামসিলেট রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে বলা হয়েছে, চরম ভোগান্তির মধ্যে চলছে চট্টগ্রামসিলেটের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রামসিলেট রুটে ট্রেন চলাচলের ভোগান্তির চিত্র কেবল একদিনের চিত্র নয়। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এই রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সিলেটগামী এক যাত্রী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামসিলেট রুটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে বছরের পর বছর চলাচলরত পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব হলেও বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না। যাত্রীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামসিলেট রুটে মাত্র এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। অথচ এই রুটে ট্রেনের যাত্রীর চাপ সীমাহীন। দুটি ট্রেনেই টিকিট সংকট লেগে থাকে। এই রুটে ট্রেন বাড়ানোর জন্য যাত্রীরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। চট্টগ্রামকক্সবাজার ও চট্টগ্রামসিলেট রুটে ট্রেনের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আগের তুলনায় ১৫০ কোটি টাকা বেশি আয় করেছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। এই আয়ের বেশির ভাগই হয়েছে যাত্রী পরিবহন থেকে। অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আয় হয়েছে ৯০৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে আয় হয়েছিল ৭৫৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

রেলওয়ে মোট আটটি খাত থেকে আয় করে। তবে মূল আয়ের খাত হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন। এবার মোট আয়ের সাড়ে ৮৬ শতাংশ অর্থ এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। পণ্য ও পার্সেল পরিবহন থেকে আয় হয়েছে ৭১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চার্জ আরোপ, পুরোনো সুবিধা প্রত্যাহারসহ নানা কারণে যাত্রী পরিবহনে আয় বাড়লেও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ তেমন নেই রেলওয়ের। সূচি না মেনে ট্রেন চলাচল, নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে না পৌঁছানো, পথে পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া, লাইনচ্যুত হওয়া, টিকিট কেটেও আসন পেতে ভোগান্তি, জনপ্রিয় রুটে পাথর নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ভোগান্তির ঘটনা এখনো বন্ধ হয়নি। তাঁরা বলেন, রেলে যে হারে বিনিয়োগ হয়েছে, সেবার মান ও যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা একেবারেই বাড়েনি। এর অর্থ, বিনিয়োগ সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। সাধারণত রেলসেবা হিসেবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা থাকে বিনা ভোগান্তিতে ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তি, পরিচ্ছন্ন প্লাটফর্ম ও ট্রেন, স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনযাত্রা। কিন্তু এ সাধারণ বিষয়গুলো আজ পর্যন্ত কোনো সরকার এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রতিটি সরকার রেল সেবার মান উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘ সময় কিংবা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন ছিল না। পরিচালন ব্যয় বাড়ানোরও তেমন আবশ্যকতা ছিল না। কেবল দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সেবাগুলোর মান বাড়ানো যেত। এতেই যাত্রী ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব ছিল।

প্রতি বছর নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং ট্রেনসেবা শুরু করলেও চাহিদা অনুযায়ী ইঞ্জিন আমদানি করা হয় না। যথাসময়ে প্রয়োজনমাফিক জনবলও নিয়োগ দেয়া হয় না। ইদানীং ট্রেন দুর্ঘটনাও তুলনামূলক বেড়েছে। চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনবগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘন ঘন লাইনচ্যুতির মতো কারিগরি ত্রুটিও দেখা দেয়। আর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আছে ট্রেনেস্টেশনে অপরিচ্ছন্নতা, সময়সূচিতে হেরফের, আসনবিহীন ও টিকিটবিহীন ট্রেনযাত্রা, খাবারের বাড়তি দামসহ ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন সমস্যা। তাই রেলের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে বাড়াতে হবে সেবাও। এসব বিষয়ে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬