চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি-২০ ক্রিকেটে ফর্টিস ময়নামতি চ্যাম্পিয়ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক | মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফর্টিস ময়নামতি। গতকাল সোমবার সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ফর্টিস ময়নামতি ৫৫ রানে ইস্পাহানি কর্ণফুলীকে পরাজিত করে। গ্রুপ পর্বের খেলায় ইস্পাহানি কর্ণফুলী ৩৬ রানে ফর্টিস ময়নামতিকে পরাজিত করেছিল। ফাইনালে ফর্টিস ময়নামতি শোধ তুলে যেন ফেভারিট ইস্পাহানি কর্ণফুলীকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে নিল। ব্যাটে বলে এদিন সুবিধা করতে পারেনি গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে আসা ইস্পাহানি কর্ণফুলী। গতকাল টসে জিতে ফর্টিস ময়নামতি প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা ১৬৬ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট হারালেও পরবর্তী ব্যাটাররা দৃঢ়তার পরিচয় দেন। বিশেষ করে মো. শাহপরান এবং সাত নম্বরে খেলতে নামা সাইফুল ইসলাম দলকে দেড় শতাধিক রান সংগ্রহে সহযোগিতা দেন। দুজনেই ৩৫ রান করে সংগ্রহ করেন।

এর মধ্যে শাহপরান ২৭ বলে ৩৫ রান করে ২টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে। সাইফুল ইসলাম ১৯ বল খেলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনি ১টি চার এবং ৩টি ছক্কা হাঁকান। অন্যদের মধ্যে শামিম মিয়া ২৭, ইরফান সাবরি ১৭ এবং ফাহিম আশরাফ রাফি অপরাজিত ১৬ রান সংগ্রহ করেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ১২ রান। ইস্পাহানি কর্ণফুলীর পক্ষে সাজেদ রিফাত ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। রতন দাশ ২টি উইকেট পান ২৫ রান দিয়ে।

জবাবে ইস্পাহানি কর্ণফুলী ১৬.১ ওভার ব্যাট করেই অলআউট হয়ে যায়। তারা তোলে সাকুল্যে ১১১ রান। ওপেনার মো. সাদিক ২৮ বল খেলে ৩৩ রান করেন ৩টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে। বাকিদের মধ্যে মো. শহিদ ২৪, রতন দাশ ১৮,এস এম তাওসিফ ১৬ এবং কফিল উদ্দিন ১০ রান করে। অন্যদের ব্যাট মোটেও হাসেনি। প্রথম তিন উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতি দিয়েই উইকেটের পতন হয়েছে। দলীয় ১১১ রানের মাথায় শেষ তিনটি উইকেটের পতন ঘটে পরপর। ফর্টিস ময়নামতির পক্ষে সাদ্দাম হোসেন ২৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নেন। ইয়াসির আরাফাত ১১ রান দিয়ে পান ৩টি উইকেট। শামিম মিয়া ২০ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন।

ফাইনাল খেলা শেষে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও নাভিদ ইকবাল, বিসিবি কাউন্সিলর ও ফিজআপ ভুলুয়া দলের পৃষ্ঠপোষক তাউছ মো. বেনী আমিন চৌধুরী, ফর্টিস গ্রুপের প্রতিনিধি আব্দুল আহাদ রিপন, ইস্পাহানি টি ট্রেডএর ব্যবস্থাপক তাসবির হাকিম এবং টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও বিসিবি কাউন্সিলর শহিদুর রহমান। চ্যাম্পিয়ন ফর্টিস ময়নামতি ট্রফি ও নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থপুরস্কার লাভ করে। রানারআপ ইস্পাহানি কর্ণফুলী ট্রফির পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা নগদ বোনাস লাভ করে। ফাইনালে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ফর্টিস ময়নামতির অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার সুলতান আবেদীন চৌধুরী। ১৯ বলে ৩৫ রান করে ফাইনালের ‘ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হন একই দলের মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটার ফরিদ আহমেদ।

এছাড়া ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হন ফর্টিস ময়নামতির সাদ্দাম হোসেন। তিনি মোট ৬৮ রান ও ৭টি উইকেট লাভ করেন। তাঁকে পুরস্কার প্রদান করেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নুরুল আবেদীন নোবেল। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন ইস্পাহানি কর্ণফুলী দলের সাজেদ রিফাত। তিনি ৯টি উইকেট লাভ করেন। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিসিবি কাউন্সিলর তাউছ মো. বেনী আমিন চৌধুরী। সেরা ব্যাটার হন ফিজআপ ভুলুয়া দলের মইনুল ইসলাম তন্ময়। তিনি মোট ১৩০ রান করেন। তাঁকে পুরস্কার প্রদান করেন বিসিবি কাউন্সিলর আবু সাদাত সায়েম। চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ম্যানেজারকে মেডেল পরিয়ে দেন অতিথিবৃন্দ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকান্না করা মাসকট শিশুকে কোলে নিয়ে মাঠে ঋতুপর্ণা
পরবর্তী নিবন্ধমিয়ানমারের সাথে ড্র করে এশিয়াড শেষ বাংলাদেশের