চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে একটি ফৌজদারি মামলার নথি চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় রাশেদুল ইসলাম নাঈম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদুল ইসলাম নাঈমকে আটক করা হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতের যুগ্ম মহানগর দায়রা প্রথম আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. আমজাদ হোসেনের কক্ষে দুই ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা নিজেদের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পিএ (পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তারা একটি মামলার রায় সম্পর্কে তথ্য জানতে চান।
প্রথমে তারা দায়রা মামলা নম্বর ৫৫২৮/২০২৪-এর রায় সম্পর্কে জানতে চাইলে আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যাচাই করে জানান, ওই মামলা সেখানে নেই। পরে তারা মোবাইল ফোনে কথা বলে মামলাটি ৫৫২৯/২০২৪ নম্বর এবং চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতে গত ১ সেপ্টেম্বর রায় হয়েছে বলে জানান।
এরপর স্টেনোগ্রাফার মো. আমজাদ হোসেন ওই দুই ব্যক্তিকে চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে নিয়ে যান। সেখানে তারা মামলার আসামি তাদের আত্মীয় দাবি করে রায়ের ফটোকপি চান। তবে আইনগত বিধান না থাকায় তাদের ফটোকপি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।
পরে তারা মামলার নথি দেখার অনুরোধ করেন। নথিটি নকল সরবরাহের জন্য স্টেনোগ্রাফার মো. আলী হোসেনের হেফাজতে রয়েছে জানানো হলে তারা তার কক্ষে যান। সেখানে তারা নথি দেখতে চাইলে স্টেনোগ্রাফার আলী হোসেন মামলাটি সাজাপ্রাপ্ত এবং আসামি পলাতক থাকায় নথি দেখানো যাবে না বলে জানান।
এজাহারে বলা হয়েছে, এরপর দুই ব্যক্তি ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর স্টেনোগ্রাফার মো. আলী হোসেন নথিটি যথাস্থানে রেখে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ওয়াশরুমে যান। এ সময় কক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে রেখে যাননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ফিরে এসে নকল প্রস্তুতের জন্য মামলার নথিটি খুঁজতে গিয়ে তিনি সেটি আর পাননি। কক্ষে থাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা সপ্তম আদালতের বেঞ্চ সহকারী মহিউদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো বিষয় খেয়াল করেননি বলে জানান।
পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়। নথিটি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পাওয়ায় এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১০টার মধ্যে ওই দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি স্টেনোগ্রাফার আলী হোসেনের অনুপস্থিতির সুযোগে দায়রা মামলা নম্বর ৫৫২৯/২০২৪-এর নথি নিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:জাহেদুল ইসলাম বলেন, মামলার অপর জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া আদালতের নথি উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










