আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম উপকরণ হচ্ছে পশু। চট্টগ্রামে এবার ৮ লাখের বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার পশু। বাকি পশু আশেপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে আসবে উল্লেখ করে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কোরবানিতে পশুর কোনো ঘাটতি হবে না। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের পশু বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন খামার, এমনকি রাস্তা ও অলিগলিতেও পশুর বাজার বসতে শুরু করেছে। একইসাথে জমে উঠছে বাজার। পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক কারণে এবার পশুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের স্থানীয় উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও কোরবানি উপলক্ষে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্টকৃত ও কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ২১ এপ্রিল তালিকাটি প্রেরণ করা হয়। তালিকাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় স্থানীয়ভাবে ৭ লক্ষ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৮২টি। গবাদি পশুর মূল্যবৃদ্ধি, পশু খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গত বছরের কোরবানির সময় প্রত্যাশিত দামে পশু বিক্রি করতে না পারা, গরু–মহিষ লালন পালনের শ্রমিক সংকট, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অনেকে পশু লালন পালন ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এতে করে এক বছরের ব্যবধানে স্থানীয় উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি।
এর আগে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদি পশুর উৎপাদন ছিল ২০২৪ সালে ৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৯টি, ২০২৩ সালে ৮ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৫টি, ২০২২ সালে ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৫০১টি, ২০২১ সালে ৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, ২০২০ সালে ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ২২টি ও ২০১৯ সালে স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছিল ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২১৯টি গবাদিপশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের স্থানীয় উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছর স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮১৩টি। অর্থাৎ এক বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর সংখ্যা কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি। এছাড়া এ বছর স্থানীয়ভাবে ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল হৃষ্ট করা হয়, যা গত বছর ছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৪টি। এ বছর ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করা হয়, যা গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩টি। পাশাপাশি গত বছর ৫৫ হাজার ৬৯৭টি ভেড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হলেও এ বছর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৪২৩টিতে।
জেলা প্রাণিসমপদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরী এবং ১৪টি উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৭১টি। ওই হিসেবে এবার স্থানীয় উৎপাদনের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৫২০টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং নোয়াখালীসহ আশেপাশের জেলা থেকে প্রচুর গরু–মহিষ নগরীতে চট্টগ্রামে আসতে শুরু করেছে। বাজার জমে ওঠার সাথে সাথে পশুর যোগান বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, গত কোরবানির ঈদের পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন যা হয়েছে তাতে আমাদের ৩৫ হাজার ৫২০টি গরু, মহিষ ও ছাগল ভেড়ার ঘাটতি আছে। তবে এটি কোনো ব্যাপার নয়। যে পশু মজুদ আছে সেটা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট। যেটুকু ঘাটতি আছে সেটা পূরণে তিন পার্বত্য জেলা ও কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের জেলাগুলো থেকে পশু আসবে। ফলে শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। দেশে চাহিদার চেয়ে পশু বেশি আছে। গো–খাদ্যের দাম বাড়তিসহ নানা সমস্যায় চট্টগ্রাম জেলায় ৩০০ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না।











