বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ফয়সালা আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন ১–১ সমতায় দাঁড়িয়েছে। ফলে আজকের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেই নির্ধারিত হবে সিরিজের জয়–পরাজয়। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি সমপ্রচার করবে টি স্পোর্টস। প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরে সিরিজ শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এতে সিরিজ এখন পরিণত হয়েছে ফাইনাল লড়াইয়ে।
গত কয়েক সিরিজে ঘরের মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশ এবারও টানা তৃতীয় সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় আছে টাইগাররা। তবে প্রথম ম্যাচে ছন্দহীন পারফরম্যান্স দেখালেও দ্বিতীয় ম্যাচে বড় পরিবর্তন আনে দলের বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা স্পেল। তৃতীয় ওয়ানডের জন্য তাকে বিশ্রাম দিয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তানজিম হাসান সাকিবকে। চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হিসেবে পরিচিত। মিরপুরের তুলনায় এখানে বড় স্কোরের ম্যাচ বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশ দল বুধবার সকালে অনুশীলন করেছে এই ভেন্যুতে। বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট বলেন, উইকেটটি ব্যাটিং সহায়ক মনে হচ্ছে, তবে কিছুটা নিচু হয়ে আসার সম্ভাবনাও থাকে। ফলে ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হবে।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ফর্মে না থাকায় চিন্তায় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। লিটন দাস, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকারদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে দলের ভাগ্য। একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও বোলিং বিভাগে মোস্তাফিজুর রহমানের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দিয়ে তাকে একাদশে দেখা যেতে পারে।
শন টেইট বলেন, সিরিজ জয়ের চাপ স্বাভাবিক। তবে দল ভালো অবস্থায় আছে এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্ক বলেন, উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকতে পারে। আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে প্রস্তুত।
নিউজিল্যান্ডের জন্যও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে তারা বাংলাদেশে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল, যা ২০০৮ সালের পর প্রথম সিরিজ জয় ছিল। এ পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি ৪৮ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩৫টিতে, বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি, আর একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। আজকের ম্যাচ তাই শুধু সিরিজ নির্ধারণী নয়, দুই দলের আত্মবিশ্বাস ও আধিপত্যের লড়াইও।













