টানা অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলীর জোয়ারে সৃষ্ট চট্টগ্রামের এ দুর্যোগে যার যেখানে প্রয়োজন সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ আহবান জানান তিনি।
সাঈদ আল নোমন বলেন, চট্টগ্রাম আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরের মানুষ আমাদের পরিবার। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করি, ানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, আমার জাতীয়তাবাদী দলের প্রিয় নেতা–কর্মী, ভাই ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান আপনারা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই দুর্যোগের সময় যার যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। ভারী বর্ষণে পাঁচলাইশ থানাধীন এলাকায় একটি দেয়াল ধসে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। সাথে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি, বিশেষ করে পাহাড় ও ঝুঁকিপূর্ণ দেয়ালের আশপাশে অবস্থান এড়িয়ে চলুন।
তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতা–কর্মীরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই। মানবিক সহযোগিতাই এই দুর্যোগ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি। সাঈদ আল সোমান বলেন, গত দুই দিন ধরে টানা বর্ষণের কারণে সৃষ্ট জলবদ্ধতায় আপনারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং কষ্ট পাচ্ছেন নিঃসন্দেহে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসন একদিনে যেমন সম্ভব নয় তেমনি এই সমস্যা চিরতরে নিরসন করা অসম্ভবও নয়। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন, মহান জাতীয় সংসদে বিষয়টি উপস্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং নির্দেশনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসনের একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ এবং ওয়াসার সমন্বয়ে ইতিমধ্যে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। এই শহর আমার আপনার সকলের। সুতরাং এই শহরকে পরিপূর্ণ বাসযোগ্য করতে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে আমি মনে করি। এই শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আসুন জলাবদ্ধতা মুক্ত একটি গ্রিন, হেলদি এবং দর্শনীয় নগরী গড়ে তুলতে আমরা এগিয়ে আসি। আমরা সচেতন না হলে সরকার কিংবা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বা সংস্থাগুলো যতই মেগা প্রকল্প হাতে নিক না কেন জলাবদ্ধতা কোনোভাবেই সম্পূর্ণরূপে নিরসন হবে না। সাঈদ আল নোমান যেখানে সেখানে ময়না ময়লা আবর্জনা না ফেলা, নিজ নিজ বাসা বা আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, খাল, নালা ও ড্রেনে কোনো ধরনের প্লাস্টিক পলিথিন কিংবা বর্জ্য না ফেলা, নিজ নিজ বাড়ির পাশের নালাকে সর্বদা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নালা ড্রেন কিংবা খালের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের ভবন কিংবা স্থাপনা তৈরি না করার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান।










