প্লাস্টিক একসময় মানবসভ্যতার অগ্রগতির প্রতীক হলেও, আজ তা হয়ে উঠেছে এক বিপর্যয়ের নাম। চট্টগ্রাম নগরীসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিদিনের ব্যবহারে জমে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন এখন ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে এবং ডেঙ্গু–ম্যালেরিয়া বাড়িয়ে তুলছে। পদ্মা–মেঘনা–বঙ্গোপসাগর হয়ে চট্টগ্রামের সাগর ও নদীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবাহিত হয়। এতে সামুদ্রিক প্রাণীকুল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মাছ ও লবণের মাধ্যমে মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে পড়ছে, যা ক্যানসার, লিভার সমস্যা ও বন্ধ্যত্বের মতো ভয়ংকর রোগের কারণ হয়ে উঠছে। এ ছাড়া কৃষিকাজ, মৎস্যজীবী জীবনধারা ও শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রামসহ পুরো বাংলাদেশে ‘সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক’ বন্ধে আইন থাকলেও তা বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। প্লাস্টিক দূষণ রোধে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তন। চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিকের উচিত বাজার, দোকান, স্কুল, মসজিদ ও বাসাবাড়িতে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহার করা এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া। শহর ও গ্রামে গণপ্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকবিরোধী শিক্ষা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা এই সংকট রুখতে পারি। পরিবেশ রক্ষার এই লড়াই শুধু সরকারের নয় চট্টগ্রামের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কারণ আজকের একটি বোতল, একটি পলিথিন ব্যাগ আগামীর সাগর, নদী ও জীবন ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
রাশেদুল ইসলাম আকিব
শিক্ষার্থী,
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।












