বিশিষ্ট চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল হোসেনের মৃত্যুর ৪০ দিন পার হওয়ার আগেই চক্ষু হাসপাতাল ও ইমপেরিয়াল হাসপাতাল দখলে মুখোমুখি হয়েছেন তার দুই পুত্র। এ নিয়ে এক পুত্র অপর পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন, তথাকথিত সাম্রাজ্য থেকে একজন অন্যজনকে উৎখাত করতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে ডা. রবিউল হোসেনের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ডা. রবিউল হোসেন জীবনের শুরুতে চাকরি করতেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে। চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকালে কৌশলে এটির সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ম্যানেজিং ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পুরোটাই বেতনভুক্ত চাকরি। চট্টগ্রাম অন্ধ কল্যাণ সমিতি নামের ট্রাস্টটি যখন সরকারি–বেসরকারি এবং দেশি বিদেশী দান অনুদানে পরিসরে বড় হতে থাকে তখন তিনি সেটার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজে নিয়ে নেন। পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিজের এবং দুই ছেলের জন্য আলাদা পাঁচতারকা মানের জীবন ধারণের ব্যবস্থা করেন। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে নিজের একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকলেও তিনি দুই পুত্রকে নিয়ে আলাদা আলাদা ভবনে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের অভ্যন্তরে বসবাস করে জীবন কাটিয়েছেন। নিজের এক ছেলে ডাক্তার রাজিব হোসেনকে চাকরি দিয়ে চক্ষু হাসপাতালের হর্তাকর্তা বানিয়েছেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ধনাঢ্য কয়েকজন ব্যক্তির অর্থায়ন, ব্যাংকের বিশাল ঋণ এবং চক্ষু হাসপাতালের বিশাল অর্থ বিনিয়োগে গড়ে উঠে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ডা. রবিউল হোসেনের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ মাত্র ৫০ হাজার টাকা। তাও চক্ষু হাসপাতালের ফান্ড থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীরা প্রতিজনে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে। ডাক্তার রবিউল হোসেনের আশা ছিল একপুত্র পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল এবং অপর পুত্র রিয়াজ হোসেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ করবেন। তাই কোনো ধরনের যোগ্যতা যাচাই না করেই চার লাখ টাকা বেতন এবং আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা দিয়ে রিয়াজ হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সিইও হিসেবে। পরবর্তীতে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগকারী হাসপাতালের পরিচালকেরা রিয়াজ হোসেনকে বহিষ্কার করেন। এই নিয়ে ডা. রবিউল হোসেন জীবদ্দশায় অসংখ্য মামলা মোকদ্দমা, মিথ্যা এজিএম, ইজিএমসহ নানা ধরনের চেষ্টা করে গেছেন।
বিশিষ্ট এই চিকিৎসকের মৃত্যুর পর দুই পুত্রের মধ্যে বাপের রেখে যাওয়া সাম্রাজ্য (!) দখল এবং উৎখাতের নতুন খেলা শুরু হয়েছে। যা প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। পিতার মৃত্যুর চল্লিশ দিন পেরোনের আগেই (ডা. রবিউল হোসেন মৃত্যুবরণ করেন গত ২৭ জুন) এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপর ভাইয়ের মামলার ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের পদ থেকে ডা. রবিউল হোসেনের পুত্র রাজিব হোসেনকে বাদ দিয়ে তাকেই নতুন পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে রিয়াজ হোসেন হাইকোর্টে কোম্পানি ম্যাটার মামলা নম্বর–৫১২/২০২৬ রুজু করেছেন। আদালত আগামী ১৬ আগস্ট রাজিব হোসেনসহ অন্যদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।
মামলাটিতে বাদি হয়েছেন রিয়াজ হোসেন, ডা. কাজী মোহাম্মদ অহিদুল আলম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান এবং রেজোয়ান শাহিদী। এই মামলায় ডা. রাজিব হোসেন ছাড়াও ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিদ নবী, এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক, সিএফওসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় হাসপাতালের বর্তমান বোর্ড অব ডিরেক্টরর্স থেকে এম এ মালেক, ওয়াহিদ মালেক, রাজিব হোসেন, শওকত হোসেন, রবিউল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ডা. অহিদুল আলমের নাম বাদ দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান, ডা. অহিদুল আলম, আলহাজ্ব জোহা চৌধুরী, রিয়াজ হোসেন, একেএম আরিফ উদ্দীন, একরামুল হক এবং রেজোয়ান শাহিদীকে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর আদালত আগামী ১৬ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য্য করে আসামিদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।












