খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছিল : এফএম সিদ্দিক

| শনিবার , ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক শোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর এই অভিযোগ তোলেন তিনি। এফএম সিদ্দিক বলেন, এই অবহেলার পথ ধরে জীবনের শেষ সময়ে যে অবর্ণনীয় কষ্ট খালেদা জিয়া ভোগ করেছেন, এটা তার প্রাপ্য ছিল না। আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরামর্শ দেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন? এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন? এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের উপর বর্তায় কিনা। ২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা। ৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল?

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র আইনগতভাবে জব্দ করার পরামর্শও শোকসভায় দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিভিন্ন পরিক্রমা তুলে ধরে এফএম সিদ্দিকী বলেন, ১২ বছর ধরে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ভূমিকা রাখলেও একটি টিম নিয়ে তার সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, ২০২১ সালের এপ্রিলে। যখন কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন। পরীক্ষানিরীক্ষার অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসক দল উনাকে মেথোট্রেঙেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন। যেটা নির্দেশ দেওয়া ছিল নিয়মিত খাওয়ার জন্য। অর্থাৎ, উনি ওই মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকদের অধীনে যতদিন ছিলেন, তারা ওই ট্যাবলেটটি উনাকে খাইয়ে গিয়েছেন।

রিউমাটেড আর্থরাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে লিভার ঠিকমত কাজ করছে কিনা, সেই পরীক্ষার দরকার হলেও তা না করার কথা তুলে ধরেন এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা আজ
পরবর্তী নিবন্ধখালেদা জিয়াকে স্মরণ, সংকটময় সময়ে ঐক্যের আহ্বান