সামপ্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়ি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। কৃষি, সওজ, এলজিইডি, মৎস্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দফতরের দেয়া বিভিন্ন ক্ষতির তালিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন এ তথ্য জানায়। বন্যায় জেলার অন্তত ১৪ হাজার ৮৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রায় ১৪ হাজার ১৭৪ জন উপকারভোগীর কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২৭৫টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণরূপে এবং ৭৬৫টি বসতবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ৩৩০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মৎস্য খাতে ৪৫০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ২৫১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ হাজার ১৩টি গবাদিপশু ও হাঁস–মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকার। খাগড়াছড়ি কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, ৩৩৩ হেক্টর জমির ফসল শতভাগ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া আউশ–আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন সবজিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি খাতের প্রায় ৭ হাজার ৪শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭শ ১০ হেক্টর ফসল নষ্ট হয়েছে।
অবকাঠামো খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১১ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলোর স্বল্পমেয়াদি মেরামতে ৫০০ লাখ টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে ২ হাজার ৪৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, আমাদের নয়টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশের রির্টানিং ওয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিন্দুকছড়ি–মহালছড়ি সড়কে পাথর পড়ে যানবাহন বন্ধ ছিল। পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এছাড়া বাঘাইছড়ি–দীঘিনালা সড়কেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীর ২৬টি সড়কের ২১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়ক, ৫টি সেতু (৩০৫ মিটার) এবং ৪টি কালভার্ট (১৮ মিটার) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি ০৫ লাখ টাকার ক্ষাতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়ির স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল রহমান জানান, আমাদের কয়টি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুবাছড়ির–মহালছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঢলের পানি কমে আসলে ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করব।










