এবারের কোরবানির ঈদে গরু মহিষ ছাগলের পাশাপাশি ভেড়ার চাহিদাও বেড়েছে বেশ। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের ফ্যাটযুক্ত ছাগল বা গরুতে শরীক না হয়ে চর্বিমুক্ত নিরাপদ স্বাস্থ্যকর ভেড়ার দিকে ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে। ঝুঁকিমুক্ত আমিষ বলে ইতিমধ্যে মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভেড়া পালনের উদ্যোক্তা যেমন বাড়ছে তেমনি ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাল দাম পাচ্ছে বিক্রেতারা। সরেজমিনে উপজেলার উপকূলাঞ্চলসহ পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন ছোট বড় উদ্যোক্তাদের ভেড়ার খামার দেখতে গেলে ভেড়া পালনকারীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি নিজেদেরকে ভাল আয় বলে বেশ আত্মবিশ্বাসীও পরিলক্ষিত হয়। উপজেলার ইছাখালী উপকূলের ভেড়া খামারি সৈয়দুল হক (৫৫) লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরেই সারাদিন কাটান ভেড়ার পালের সাথে। একটি ভেড়া ৮–১০হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকাও বিক্রি করেন। এবারের কোরবানিতে অনেক সামর্থ্যবানকে কোরবানির গরুর পাশাপাশি ভেড়া পালন করতেও দেখা যাচ্ছে। আর মধ্যবিত্তদের প্রিয় তো হয়ে উঠছেই। তার কাছে এক পালেই তিন শতাধিক ভেড়া রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা। প্রতি মাসে ভেড়া পালন করেই লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি। তালবাড়িয়া রেল স্টেশন সংলগ্ন ত্রিপুরা পাড়ায় সজল ত্রিপুরার (৪৬) কাছে আছে ১৫ টি ভেড়া। প্রায়ই ক্রেতারাই তার বাড়িতে গিয়ে কিনে নিয়ে আসে। এতে তার পরিবারের খরচ চলে যায়। এছাড়া মুহুরি প্রজেক্ট, বাংলাবাজার, খৈয়াছরা, ওয়াহেদপুর, করেরহাট, ওচমানপুর, সাহেরখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অগনিত ভেড়ার খামার। মীরসরাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রাণী বিশেষজ্ঞ ডা: জাকিরুল ফরিদ জানান, ভেড়ার মাংস চর্বিমুক্ত সুস্বাধু আমিষ হিসেবে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মীরসরাইয়ে বর্তমানে ৪ হাজার ভেড়া আছে। ভেড়া পালনকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন। তিনি বলেন, মীরসরাই উপজেলার উপকূলাঞ্চল ভেড়া পালনের জন্য খুবই উপযোগী। আবার সমধিক পরিমাণে উপযোগী পাহাড়ি নিকটবর্তী এলাকা। এছাড়া গ্রামীণ পতিত ও পরিত্যক্ত এলাকাগুলোতে সম্ভব ভেড়া পালন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ভেড়া পালন বেশ লাভজনক। ভেড়া ঘাস খেতে খুব পছন্দ করে এবং দলগতভাবে ঘুরে বেড়ায়। তাই এটি পালন করা খুব সহজ। এদের প্রজনন ক্ষমতাও বেশি। এটি ১৫ মাসে ২ বার বাচ্চা দেয়। তাই ভেড়া পালন শুরু করলে কয়েক বছরের মধ্যে খামারের আকার বড় হয়ে উঠে। অন্যদিকে এটি পালন করে লাভবান হওয়া যায়। প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, ভেড়া শুধু ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। তবে কিছু দানাদার খাদ্য সরবরাহ করলে ভালো উৎপাদন পাওয়া যায়। ভেড়া পশম ও মাংসের জন্য পালন করা হয়। আমাদের দেশে ভেড়ার তেমন কোনো ভালো জাত নেই। বাংলাদেশের ভেড়া মোটা পশম উৎপাদন করে। তাই এরা পশমের জন্য জনপ্রিয় নয়। আমাদের দেশে ভেড়া মাংসের জন্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। ভেড়াকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য এবং এদের থেকে বেশি উৎপাদন পেতে হলে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হবে। নিয়মিত ব্রাশ দিয়ে ভেড়ার পশম পরিষ্কার করতে হবে। এতে পশমের ময়লা বেরিয়ে আসবে। ভেড়ার দেহে মাঝে মধ্যে পরজীবীনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ভেড়ার পশম কাটার আগে গোসল করাতে হবে। কম পুঁজিতে, স্বল্প পরিশ্রমে ও দ্রুত মুনাফা অর্জনের জন্য ভেড়া পালন অত্যন্ত লাভজনক, ভেড়ার রোগবালাই কম, এরা যেকোনো আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে পারে এবং এদের প্রধান খাদ্য হলো ঘাস ও লতাপাতা, যা পালনের খরচ অনেক কমিয়ে দেয়। এছাড়াও ভেড়ার মাংসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভজনক। অল্প জায়গাতেই পালন সম্ভব; ভেড়ার জন্য বড় আকারের কোনো ঘরের প্রয়োজন হয় না, রাতের বিশ্রামের জন্য সাধারণ একটি ছাউনি বা জায়গা হলেই যথেষ্ট।












