কিডনি ডায়ালাইসিসের সংকট কাটল

চমেক হাসপাতাল । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে স্যান্ডারের মেয়াদ বাড়ছে ৬ মাস । ভর্তুকিমূল্যে সেবা নেয়া ২৭৬ কিডনি রোগীর স্বস্তি

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের কিডনি রোগীদের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থাপিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে। ফলে সরকারি ভর্তুকি সুবিধায় মাত্র ৬২১ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়া ২৭৬ জন গরীব ও মধ্যবিত্ত রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে গত ২০১৬ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চলতি মাসের ২৯ নভেম্বর সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত বছরের ২৫ মে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্যান্ডরের সাথে চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ফলে চুক্তির শর্তমতে মেয়াদ শেষে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়ে যাবে বলে জানানো হয়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সরকারি ভর্তুকি মূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা নেয়া কিডনি রোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ডায়ালাইসিস সেন্টার রক্ষা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী রোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে রোগীরা দাবি করেন, স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সেন্টারের সেবা অব্যাহত রাখা অথবা বিকল্প কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, পিপিপি’র আওতায় ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও চমেক হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিসে দুটি সেন্টার স্থাপন করে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেড। এর মধ্যে ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চমেক হাসপাতালে ৩১টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৯ নভেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের শুরুতে ডায়ালাইসিস সেবা কার্যক্রম চালু করে। বর্তমানে গরিব রোগীদের জন্য ডাইলাইসিসে রেফার্ড সেশন ফি নেওয়া হচ্ছে ৬২১ টাকা। বেসরকারিভাবে প্রতি ডাইলাইসিসে সেশন ফি নেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সিঙ্গেল ডায়ালাইজার ফি নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকা। এর বাইরে মুক্তিযোদ্ধা ও অতি দরিদ্র কিছু রোগী ফ্রিতে এই সুবিধা পেয়ে থাকেন। সারা বছরে ৬৫০ জনকে ফ্রি সুবিধা প্রদানের সুযোগ রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একজন রোগীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৮টি সেশন দেওয়া হয়।

গতকাল দুপুরে স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বেডে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। অপেক্ষমাণ রুমে বসে আছেন রোগীর স্বজনেরা। ডায়ালাইসিস সেবার মধ্যে গরিব, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।

স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে সেবা নেয়া রোগীরা জানান, চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হলে তাদের চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। কারণ কিডনি চিকিৎসা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। এখানে ডায়ালাইসিসের ব্যয়ের বাইরেও নিয়মিত ওষুধপত্র কিনতে হয়। অধিকাংশ রোগীর মাসে ৮টি পর্যন্ত ডায়ালাইসিস সেশন লাগে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন আজাদীকে বলেন, চমেক হাসপাতালে পিপিপির আওতায় স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে দরিদ্র ও বিভিন্ন শ্রেণির কিডনি রোগীরা। প্রতিষ্ঠানটির সাথে চলতি নভেম্বরের শেষে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে চুক্তির মেয়াদ আরো ৬ মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চুক্তির এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত মতে, একই স্থানে সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের জন্য প্রস্তুতি শেষ করা হবে। বিশেষ করে ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা ও জনবল নিয়োগের বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমানে স্যান্ডরের মাধ্যমে রোগীরা ৬২১ টাকায় প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছে। স্যান্ডরের প্রতি সেশন ডায়ালাইসিস ফি ৩ হাজার ৩৯৭ টাকার মধ্যে রোগীরা দিচ্ছে ৬২১ টাকা এবং বাকি টাকা আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। এছাড়া স্যান্ডর প্রতি বছর ৫ শতাংশ করে তাদের সেবার মূল্য বাড়ায়। তারা শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি ও জনবল দিয়ে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচও আমাদের। সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপিত হলে প্রতি সেশন ৪১৬ টাকায় রোগীরা ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর