কাল আজকাল

কামরুল হাসান বাদল

বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

সাম্প্রদায়িকতা-উপমহাদেশের এক অমোঘ নিয়তি
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারতে ধর্মীয় সংগঠন বিজেপি, আরএসএস ও শিবসেনার মতো দলগুলোর জনপ্রিয়তা এবং এক সময় রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পেছনে একমাত্র ট্রাম্প কার্ড ছিল রামমন্দির ইস্যু। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন মাত্রার প্রচারের ফলে বহুধর্মের বহু সংস্কৃতির উদার চারণভূমি ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধ্যানধারণা জায়গা করে নেয়। ভারতকে রামরাজ্য বানানো কিংবা বাবরী মসজিদ ভেঙে সেখানে রামমন্দির প্রতিষ্ঠার কথা বলে বিজেপি রাজনীতিতে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শুধু তাই নয় বর্তমানে মোদির নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের শাসনভার পরিচালনা করছে।
রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। তাতে বহু প্রাণহানি ঘটেছে।
বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সর্বশেষ ভারতের উচ্চ আদালত বিষয়টির একটি নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছে। রায়টি কার্যত রামমন্দির প্রতিষ্ঠাকারীদের পক্ষেই গেছে ফলে এরপর ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি তার মিত্রদের ইস্যু করার মতো আর বিষয় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভারতের রাজনীতির খবর যারা রাখেন তারা ভাবছিলেন রামমন্দির ইস্যু স্থিমিত হওয়ার পর বিজেপি সরকার নতুন করে কোন ইস্যুটি দাঁড় করাবে ? কারণ একমাত্র ধর্মীয় উন্মাদনাই পারে এ ধরনের মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে ক্ষমতায় যেতে এবং টিকিয়ে রাখতে।
যে ধরনের উন্মাদনা, স্বপ্ন, প্রত্যাশা জাগিয়ে বিজেপি দিল্লির ক্ষমতায় গিয়েছিল মোদির এক মেয়াদে তার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বরং নিচে নেমে গেছে। শেষ পর্যন্ত চমক জাগানিয়া চন্দ্র অভিযানও সফল হয়নি ভারতের। হাজার কোটি ডলার খরচ করে ভারতের চন্দ্রাভিযানের কঠোর সমালোচনা আছে খোদ ভারতেই। এখনো যেখানে ত্রিশ কোটির মতো সাধারণ মানুষ প্রবল পানির কষ্টে থাকে। যাদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়, এখনো যেখানে মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের কাছাকাছি খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে বাধ্য হয় সেই সময় এত টাকা খরচ করে চন্দ্রাভিযানের কী প্রয়োজন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় নাগরিকরাই।
রামমন্দির ইস্যুর কার্যকারিতা শেষ হওয়ায় এখন তাদের নতুন ইস্যু নাগরিকত্ব বিল। এর আগে তারা নাগরিক পঞ্জি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আসলে এ ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় এমন আচরণই করে। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও উন্মাদনাই এদের রাজনীতির মূলভিত্তি।
গত সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিলটি পেশ হয়েছে। বুধবারে বিলটি পেশ করা হবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়। নাগরিকত্ব বিলে সংশোধনী এনে বিজেপি চাইছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে সে দেশের যেসব অমুসলমান সংখ্যালঘু ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার দিতে। কোন কোন ধর্মের মানুষ এই বিলের আওতায় পড়বে তাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, পার্সি, জৈন ও খ্রিস্টান এই ছয় ধর্মাবলম্বীর যারা অত্যাচারিত হয়ে চলে এসে নাগরিকত্ব দাবি করছেন তারাই এই সুযোগ পাবেন। বিলটি পেশের সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশসহ তিনটি প্রতিবেশী দেশের সংবিধানকে উদ্ধৃত করে বলেন এই দেশগুলোর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষেরা নিপীড়িত হচ্ছে। খতিয়ে দেখলে অমিত শাহের অভিযোগটি মিথ্যা নয়। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে লোক দেখানো দুটো সরকার আছে বটে আসলে রাষ্ট্র দুটো পরিচালিত হয় কট্টরপন্থি ইসলামী জঙ্গিদের দ্বারাই। সে দেশদুটোতে উদার, মুক্তমনা ও ভিন্নমতাবলম্বীরাই থাকতে পারেন না। ভিন্নধর্মের মানুষ বাস করবে কীভাবে তা ভাবনার বিষয়। তবে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের মতো দুটো প্রায় ব্যর্থ রাষ্ট্রের সঙ্গে একই পাল্লায় বাংলাদেশকে পরিমাপ করাটা (এদেশেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকা সত্ত্বেও) কতটা যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নানাভাবে নির্যাতিত হয় ঠিকই কিন্তু তা পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো তা মেনে নেওয়া যাবে না।
এই বিল নিয়ে বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে বিপাকে পড়েছে। দেশের যে অঞ্চলকে আশ্বস্ত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এত চেষ্টা করলেন সেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্য মঙ্গলবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই বিলকে কেন্দ্র করে। অভ্যন্তরীণ এই প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি ভারতের দক্ষিণপন্থি বিজেপি সরকারকে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কিত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। তারা জানিয়েছে “নাগরিকত্ব দিতে এই বিলে যে মানদন্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে তা খুবই বিপজ্জনক।” সোমবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে বিল সংসদে পেশ করেছেন, তাতে ধর্মীয় মানদন্ড বেঁধে দেওয়ায় ইউএসসিআইআরএফ উদ্বিগ্ন। বিলটি আইনে পরিণত হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সে দেশের শীর্ষ নেতাদের ওপর মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।”
শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নাগরিকত্ব প্রদানের এই সিদ্ধান্ত বহুত্ববাদী ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য, বর্নিল সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের ওপর হুমকি হয়ে দেখা দেবে কিনা সে প্রশ্ন তুলেছেন মানবতাবাদীরা।
২। অমিত শাহ প্রতিবেশী তিনটি মুসলিম রাষ্ট্র নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তার যথার্থতা নিয়ে এবার আলোচনা করা যাক। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী তিনটি দেশেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তার এই তথ্য মিথ্যে নয়। তবে বাংলাদেশেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও এ দেশটির পরিস্থিতি অন্যদুটি রাষ্ট্র পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো নয়। বরং বাংলাদেশে বর্তমান দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে সে দলটিই দেশের সংবিধানে প্রথম ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতির পিতাকে হত্যা করে যে দল বা রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘ ২৮ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিল সে শক্তির হাতেই রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের বদল হয়েছে। এই শক্তির হাতেই দেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান প্রসার বা বিস্তৃতি ঘটেছে। শুধু তাই নয়, এ পর্যন্ত এই দেশে যতগুলো সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে ওইসব রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন কাজ করেছে কোনো না কোনোভাবে। জিয়া-এরশাদ ও খালেদা জিয়ার শাসনকাল দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে এতই আস্কারা দিয়েছিল যে, তার প্রভাব ও বলয় আজও সমাজে রয়ে গেছে। শুধু তাই নয় এর বিস্তৃতি এখনো চলছে। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের মতো অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল থাকলেও সমাজ জামায়াত ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারগুলো তালেবান-আলকায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের কৃপায় নামকাওয়াস্তে টিকে আছে। সেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতা বলতে কিছু নেই। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা উদারপন্থিদের দমন করছে, তাদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি হলো এই তিন দেশের বিপরীত। এই দেশেই ইসলামী জঙ্গি বা কট্টরবাদীদের শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষায় যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা যে ঘটছে না তা নয়। তবে তার জন্য জোরালো প্রতিবাদ হচ্ছে। সরকারকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতও হতে হচ্ছে। সরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করার প্রবণতা দূর করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে যে রাষ্ট্রধর্ম এখনো বিদ্যমান তার দায় আওয়ামী লীগের না হলেও এই দলকেই সেই ভার বহন করতে হচ্ছে। তারা সংবিধান থেকে এই অষ্টম সংশোধনী। যার মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন স্বৈরশাসক এরশাদ, বাদ দিতে পারছে না। না পারার ইঙ্গিত আমি লেখায় উল্লেখ করেছি। সমাজ প্রবলভাবে ধর্মীয় প্রভাবযুক্ত হয়ে পড়েছে। এতবছর ধরে আমরা এই বাস্তবতার কথাটি মুখে বলে এসেছি এবার তা তথ্য প্রমাণসহ উপস্থাপিত হলো।
গত সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত উগ্রবাদবিরোধী প্রথম জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয়তা বা নাগরিকত্বের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য হয়ে উঠেছে। বয়স, লিঙ্গ, ধর্মবিশ্বাস, পেশা, সামাজিক অবস্থান, নগর বা গ্রামবাসী যা-ই হোন না কেন বাংলাদেশিরা এখন একক পরিচয়ে পরিচিত হতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ ধর্মীয় পরিচয়। সম্মেলনে ‘আইডেনটিটি, আইডেনটিটি পলিটিঙ অ্যান্ড ইলেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার।এই গবেষণার সময় তিনি বিভিন্ন পেশার ২০৮ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ১৪৫ জনই ধর্মীয় পরিচয়কে এক নম্বরে রেখেছেন। জাতীয়তা অর্থাৎ বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৯২ জন। বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ৭১ জন। শেষের এই দুই দলই বলেছে তাদের এই পরিচয়ের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো বিরোধ নেই। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, গবেষণার এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় বাঙালির যে উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র তা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
৩। মানুষ হিসেবে আমাদের উৎকন্ঠাটি সেখানেই। মানুষের কাছে তার ধর্মীয় পরিচয়টি কিংবা অন্যজনের বেলায় তার বিবেচনার বিষয়টি যদি শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হয় আর এই প্রবণতা যদি ব্যক্তি থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে তখন তা উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও ভয়ের না হয়ে পারে না।
ভারত যদি শুধু অমুসলিমদেরই নাগরিকত্ব দেয়, মুসলিমদের না দিয়ে নাগরিকপঞ্জির অজুহাতে দেশের বাইরে ঠেলে দেয়, অন্য তিনটি মুসলিম দেশ যদি একেবারে সংখ্যালঘু শূন্য হয়ে পড়ে কিংবা শূন্য করে ফেলে তাহলে কী হবে? সমস্যার কি কোনো সমাধান হবে? একটি রাষ্ট্র কি শুধু একটি ধর্মের মানুষের জন্যই গড়ে তোলা হবে? তাতে মানবজাতির কি কোনো কল্যাণ হবে? কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেছেন, কংগ্রেসই ১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে ভারত ভাগ করেছিলেন। অমিত শাহ’র অভিযোগটি একেবারেই মিথ্যা নয়। সেদিন যদি তেমনটি না ঘটতো তাহলে হয়ত আজকের পরিস্থিতি এমন নাও হতে পারতো। তবে একটি কথা মানতে হবে, যে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে একদা ভারত ভাগ হয়েছিল সে সাম্প্রদায়িকতার র্অভিযোগ থেকে এই উপমহাদেশ মুক্ত হতে পারলো না। ভারতের মতো একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যদি এমন একটি বিল পাশ হয়ে আইনে পরিণত হতে পারে, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত বাঙালির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকের কাছে যদি তার জাতীয়তার আগে সম্প্রদায়গত পরিচয় বড় হয়ে ওঠে তখন তা কখনোই সুখবর নয়। মানবজাতির জন্য স্বস্তিকর নয়। এই উপমহাদেশেরই কবি বলেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ সেই উপমহাদেশে যদি কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য বিশেষ ধর্মের লোক হতে হয়। অন্যধর্মের লোক হওয়ার কারণে যদি চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে অনিশ্চিতের পথে পা বাড়াতে হয় তাহলে এর চেয়ে বড় লজ্জার, অপমানের কী থাকে। যেখানে আজ মানুষ মানুষে ভ্রাতৃত্ব গড়ান কথা, মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর কথা, যেখানে আজ মানুষই মুখ্য পরিচয় হওয়ার কথা সেখানে স্রেফ ধর্মীয় বিশ্বাসই যদি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে এর চেয়ে বড় অধর্ম আর কী হতে পারে?
লেখক-কবি ও সাংবাদিক

x