কাল আজকাল

কামরুল হাসান বাদল

বৃহস্পতিবার , ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

অনুমোদনহীন ভবনের জন্য ক্ষতিপূরণ ও লাখ টাকার কমোড
একটি দশতলা ভবনের কারণে আটকে আছে নগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের কাজ। সড়ক নির্মাণ করতে গেলে ভাঙতে হবে ভবনটি আর ভবনটি ভাঙতে হলে এর মালিককে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারকে দিতে হবে ১০ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলো ক্ষতিপূরণ হিসেবে। তবে টাকা হস্তান্তরের কয়েকদিন আগে জানা গেল ভবনটি অবৈধ অর্থাৎ অনুমোদনহীন কাজেই সরকারের ১০ কোটি টাকা গচ্চা দেওয়া থেকে আপাতত রেহাই পাওয়া গেল। ২০১৬ সালের অগাস্টে ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একনেকে অনুমোদন পায় বাকলিয়া এক্সেস রোড। ৬০ ফুট চওড়া সড়কটি সিরাজউদ্দৌলা সড়ক থেকে শুরু হয়ে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে যুক্ত হওয়ার কথা শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সাথে। এ বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছরের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার কারণ হলো সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থানে একটি দশতলা ভবনের অনুমতি দেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অনুমোদিত ভবন ভাঙতে হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এমন কথা বলে কাজ বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ক্ষতিপূরণের ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। এ নিয়ে গত তিন বছর নানা কথা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে বহুবার সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। সিডিএ নিজেই বলেছে এ ভবন ভাঙতে হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
শনিবার একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটির কোনো অনুমোদন নেই। অনুমোদনহীন ভবনের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রশ্নই ওঠে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয় সরকারি সংস্থাগুলোর প্রকল্প দেখভালের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত প্রকল্প মনিটরিং কমিটি। এই কমিটি সেপ্টেম্বরে সিডিএর প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে এবং বাকলিয়া এক্সেস রোডের কার্যক্রম পিছিয়ে থাকার জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয় বর্তমান চেয়ারম্যানকে। এরপর প্ল্যান অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিঠি দেওয়া হয় তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য।
এরই প্রেক্ষিতে প্ল্যানিং বিভাগসহ অন্যান্য শাখা থেকে যে লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে সেখানেই প্রকৃত সত্যটি উঠে আসে। তাতে দেখা যায় ভবনটি যে দাগ নম্বরে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে নেই। খতিয়ানের চারটি দাগে ভবনটি নির্মাণের নকশা জমা দিয়ে অনুমোদন চাওয়া হয়। ১৭০৫১ দাগের জায়গাতেই ভবনটির বেশিরভাগ অংশ। সিডিএ’র পক্ষ থেকে এখন বলা হচ্ছে এই দাগে তারা কোনো ভবনের অনুমোদন দেয়নি। আবেদনে ১৭০৫১ নং দাগটি ছিলই না।
এই বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুর ইসলাম বলেন, “এই বিষয়টি আমি অনেক আগেই বলে আসছি। ভবনটি যে স্থানে রয়েছে আমি সে স্থানে তাকে অনুমোদন দিইনি। তাই ভবনটি অবৈধ। আর অবৈধ ভবনের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত চিঠিও লেখা হয়েছিল কিন্তু সেই চিঠি ইস্যু করার জন্য অনুমোদন দেননি তৎকালীন চেয়ারম্যান।”
“যদি ভবনটি অনুমোদনহীন হয়েই থাকে তাহলে এতোবছর ভবন মালিককে নোটিশ ইস্যু করা হয়নি কেন” এমন প্রশ্ন করা হলে সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার ও ইমারত নির্মাণ কমিটির সদস্য সচিব মনজুর হাসান বলেন, একথা শতভাগ সঠিক যে, যে দাগ নম্বরে আমরা তাকে ভবনের অনুমোদন দিয়েছি ভবনটি সে জায়গায় গড়ে তোলা হয়নি। তাই তখনকার সময়ে চিঠি ড্রাফট করে দিলেও প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান সিডিএ’র স্বার্থে নোটিস ইস্যু করতে দেননি।’
পত্রিকাটি যেহেতু প্রাক্তন চেয়ারম্যানের কোনো বক্তব্য নেননি সেহেতু এ বিষয়ে তাঁর ভূমিকা সত্যি কি ছিল তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। তবে একটি প্রশ্ন অন্তত করতে পারি যে, ভবনটি রাতারাতি তৈরি হয়নি। আলাদিনের চেরাগের দৈত্যের সাহায্যেও তিনি তা করতে পারেননি। দিনে দুপুরে কয়েক বছর ধরে বিশাল এই ভবনটি তৈরি করেছেন তার মালিক। এতবড় একটি ভবন অনুমোদনহীন একটি জায়গায় গড়ে উঠেছে তা জেনেও প্রধান নগরবিদ ও অথরাইজড অফিসার কোনো ব্যবস্থা নিলেন না কেন? দীর্ঘ তিন বছর ধরে কাজটি ঝুলে থাকল। শেষ পর্যন্ত সংকট নিরসনে সরকার ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য বরাদ্দ দিল তা জেনেও তারা নিশ্চুপ রইলেন কেন? বর্তমান চেয়ারম্যান “প্রকল্প মনিটরিং কমিটি’র নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা না নিলে, প্রত্যেক বিভাগ থেকে আলাদা আলাদা লিখিত বক্তব্য প্রদানের নির্দেশ না দিলে তো ঘটনা চাপা থাকতো। মাঝখানে অনুমোদনহীন ভবনের মালিককে ১০ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হতো যে টাকা মূলত জনগণের টাকা। এর পেছনে কি তাহলে সংশ্লিষ্টদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই? টাকার ভাগ কি তারাও নিতেন বলে এমন ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন? এত বড় অন্যায়ের পরও কি তারা স্বপদে বহাল থাকবেন? তাদের কোনোই শাস্তি হবে না? এই সংস্থাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান কি এই অনিয়মের সামান্য দায়ও বহন করবেন না? এই দশকোটি টাকা দিয়ে-জনগণের স্বার্থে কত কাজই না সরকার করতে পারত। যে দেশের হাসপাতালে টাকার অভাবে একটি এক্সরে মেশিন কেনা যায় না, যে দেশে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে হয়। যে দেশে ছাদবিহীন স্কুল গৃহে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়, যে দেশের কয়েক হাজার টাকার অভাবে অনেকে চিকিৎসা করতে না পারায় মৃত্যুবরণ করে, যে দেশে কয়েক হাজার টাকার অভাবে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে না, যে দেশে সরকারের ১০ কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারার এই অসাধারণ ব্যবস্থাপনা দেখে জাতির পিতার ভাষণটি মনে পড়লো, এ দেশে দুর্নীতি করে কে? এদেশে লুটপাট করে কে?
২। সরকারি চাকরি যারা করেন তারা দুর্নীতিকে তাদের কাজের অংশ বলেই হয়ত ধরে নিয়েছেন। এরমধ্যে কিছু ব্যতিক্রম আছেন মানতে হবে।
“শুদ্ধাচার” অনুশীলন, শুদ্ধি অভিযান কোনো কিছুকেই তারা পরোয়া করেন না। সাধারণত, আমরা রাজনীতিকদের দুর্নীতি নিয়ে যতটা সোচ্চার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি নিয়ে ততটা নই। যদিও ঘি-মাখনটা খাচ্ছে তারাই। রাজনীতিকরা দুর্নীতি করলেও তার বিশাল অংশ তাকে কর্মী সমর্থকদের পেছনে ব্যয় করতে হয় বা কর্মী সমর্থকদের কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতি করেন কিন্তু সরকারি কর্তারা যা কামিয়ে নেন তা একেবারেই নিজের জন্য করেন। তার দ্বারা অন্যরা খুব বেশি উপকৃত হন না। দেশের বড় বড় শহরগুলোর অভিজাত পাড়ার বাড়ি, অত্যাধুনিক শপিং মলের দোকান-রেঁস্তোরা, দেশি-বিদেশি ব্যাংকে টাকা ও ইউরোপ আমেরিকায় বসবাসকারীদের পরিসংখ্যান নিলে বোঝা যাবে তার কত পার্সেন্ট রাজনীতিকের আর কত সরকারি কর্তাদের। তাদের দুর্নীতির বয়ান আর সাইজ দেখে জনগণের ভিমড়ি খাওয়ার যোগাড় হয়েছে। বালিশ থেকে পর্দা, পর্দা থেকে কমোড কোথাও পিছিয়ে নন আমাদের সরকারি কর্মকর্তাগণ।
সোমবার স্থানীয় একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছে ১২ টি কমোড ১১ লাখ টাকা! সংবাদটিতে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিত্যক্ত চারটি বাসা মেরামতে সরকারি টাকা হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে। বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পশ্চিম পাহাড়ে অবস্থিত চারটি বাসায় অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডকে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। যার জন্য বন গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিটি থেকে ভাড়া হিসেবে পাবে ২৬ হাজার ৮০৪ টাকা। তবে এসব বাসা পরিত্যক্ত থাকায় তা সংস্কার করে রাবার বোর্ডকে বুঝিয়ে দিতে সিদ্ধান্ত হয়।এই সংস্কার করতে গিয়ে তারা ১২টি কমোডের দাম দেখিয়েছে ১০ লাখ ৯০ হাজার ৯২০ টাকা। অর্থাৎ একটি কমোডের মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৯০ হাজার ৯১০ টাকা। একইভাবে ১৯শ স্কয়ার ফিটের বাড়িতে টাইলস লাগানোর খরচ ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩০ টাকা। বাজার দর যাচাই করে পত্রিকাটি লিখেছে আড়াই গুণ বেশি দেখানো হয়েছে খরচটি। চারটি বাসায় ছাদ মেরামতের ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৪ টাকা। যদিও সে বাসায় এখনো ছাদ থেকে পানি পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মাসুদুর রহমান ওই পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন, এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিউজ না করে বন গবেষণার অনেক উন্নয়ন কাজের নিউজ আছে তা করেন।”
বনবিভাগের দুর্নীতির কথা সর্বজনবিদিত। বনকে বৃক্ষশূন্য করতে এই বিভাগের অসাধারণ কৃতিত্বের কথা শুনতে শুনতে, পড়তে পড়তে এখন তা গা সওয়া হয়ে গেছে। সে তুলনায় বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের এইসব অনিয়ম দুর্নীতি নস্যিমাত্র।
৩। আমি রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি-কর্মচারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তুলনা টেনে রাজনীতিকদের দুর্নীতিকে হালকা বা জায়েজ করার কথা বোঝাইনি। বলতে চেয়েছি এ জাতির মধ্যে সুযোগ পেলে দুর্নীতি করার প্রবণতা আছে তা বোঝাতে।অনেকেই বলে থাকেন এবং আমি নিজেও বিশ্বাস করি রাজনীতিকরা সৎ হলে সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যরা অর্থাৎ সরকার বা রাষ্ট্রের কর্মচারীরা দুর্নীতি করতে উৎসাহী হবে না। কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সরকার সে সময়ে শিক্ষিত তরুণদের সরকারি নানা শূন্য পদে বসিয়েছিলেন। তাতে কী ঘটেছিল তা আমাদের স্মরণে আছে। আজ দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত যাদের দ্বারা যাদের হাত দিয়ে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে তারা সকলেই শিক্ষিত মেধাবী। দেশের, অনেকে আবার বিদেশের নামি-দামি উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে এসেছেন। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে মসজিদ কমিটির নেতা পর্যন্ত দুর্নীতি করেন সে দেশে দুর্নীতি দূর করা কঠিন হবে তাতে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” দেখাতে গিয়ে দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন এবং সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েই তার শুদ্ধি অভিযান শুর করেছেন। শুধু তাই নয়, দল এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন। এরই মধ্যে যাদের দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের সবাই বিতর্কের উর্ধ্বে। তাদের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিকেই আগে শুদ্ধ করার প্রয়াস নিয়েছেন। এজন্য তাঁকে সাধুবাদ।
তবে শুদ্ধি অভিযানটি এক প্রকার ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানেই যেন থমকে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যুবলীগের এই কতিপয় নেতা ক্যাসিনো ব্যবসা করেই যাবতীয় দুষ্ককর্ম বা দুর্নীতি করেছেন। তাদের জেলে পুরে দেওয়ার পর আর কোনো সমস্যা রইল না। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? ক্যাসিনো কান্ডের জন্য যুবলীগের কয়েকজনেরই শুধু বিচার হবে? ক্যাসিনো চালাতে গিয়ে যাদের ঘরে লভ্যাংশ গেছে, যারা এই কারবার টিকে থাকার জন্য সুযোগ দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, যারা দেখেও না দেখার, জেনেও না জানার ভান করেছেন তাদের কোনো বিচার হবে না? যদি তাদের বিচার না হয় যদি তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় যদি বারবার রাজনীতিকদেরই হেনস্থা হতে হয় তাহলে জনগণের কাছে একটি ভুল বার্তা যাবে। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
ক্যসিনো পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ। মানুষের অতিরিক্ত টাকা হলে তা খরচের নানা অনুষঙ্গের দরকার হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ক্যাসিনো চলেছে অনুমতি বা অনুমোদন ব্যতিরেকে। এটাই অপরাধ। তবে এই অপরাধের তুলনায় শতগুণ বড় অপরাধ বড় অন্যায় দেশে সংঘটিত হচ্ছে। ইয়াবা কারবার, নারী ও শিশু পাচার, ওষুধ ও খাদ্যে ভেজাল, সরকারি অর্থের লুটপাট সে সব অনেক বড় অপরাধ। এসব বন্ধে কঠোর হতে হবে। তবে কাজটি কঠিন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কারণ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সফল করার জন্য দুর্নীতিমুক্ত মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট নয়।
লেখক : কবি ও সাংবাদিক

x