কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বেড়ে ১৮০ মেগাওয়াট

টানা বৃষ্টিতে ফুলছে হ্রদ

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি | শনিবার , ১১ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। তবে শুল্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন নামে তলানিতে। কখনো কখনো কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের একটি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২০২৫ মেগাওয়াট। তবে সপ্তাহখানেক আগে কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৯১৮০ মেগাওয়াটে। তিনদিন আগেও সেখানে উৎপাদন ছিল ১৫০ মেগাওয়াট।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাপের রুল কার্ভ (সময়সূচিভিত্তিক পানি ওঠানামার মাপ) অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে ৯০ দশমিক ৩১ মিনস্‌ সি লেভেল (এমএসএল) পানি রয়েছে। যদিও স্বাভাবিকভাবে কাপ্তাই হ্রদে পানির থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৪৪ এমএসএল। রুল কার্ভ হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫ এমএসএল পানি বাড়তি রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণ সক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। ১০৮ এমএসএল পর্যন্ত বিপদসীমা ধরা হয়। টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে করে বাড়ানো হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে এখন ৫টি ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১৭৯১৮০ মেগাওয়াট। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে ৪২ মেগাওয়াট, তৃতীয় ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট এবং চতুর্থ ও পঞ্চম ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গড়ে প্রতি ইউনিট ৩৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে রয়েছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে বলছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে ১৮০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দুইতিন দিন আগে উৎপাদন ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। বৃষ্টিপাতের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো হবে।

প্রসঙ্গত, ষাটের দশকে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে গড়ে ওঠে বিস্তীর্ণ কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দেয়া অংশে চালু করা হয় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কৃত্রিমভাবে হ্রদের পানি সংরক্ষণ করেই করা হয় উৎপাদন। শুরুর দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৮০ মেগাওয়াট।

পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে স্থাপনাটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে মোট ২৪২ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে। এ উৎপাদনের পুরো বিদ্যুৎ যায় জাতীয় গ্রিডে। গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে পরিমাণ উৎপাদন ব্যয় হয়ে থাকে; সেটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে সাশ্রয়ী, মাত্র ৪০ পয়সা। যে কারণে এটিতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে ব্যয় কম হয় থাকে বিপিডিবির। তবে কাপ্তাই হ্রদে পানির পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন বাড়ানোকমানো নিয়ন্ত্রণ করে ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টার (এনএলডিসি)

পূর্ববর্তী নিবন্ধআর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মেনে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় সুইজারল্যান্ড
পরবর্তী নিবন্ধবন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন