নগরের চকবাজার–মুরাদপুর সড়কের কাতালগঞ্জে রাস্তার পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক স্থাপনার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি সেখানে ঢাকার রমনা পার্কের আদলে একটি ‘গ্রিন পার্ক’ গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র এসব কথা বলেন। কাতালগঞ্জে উপস্থিত হয়ে টিনের ঘেরাও দিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা দেখে মেয়র চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো দিছে কে? আমাকে না জানিয়ে সাইন করিয়ে ফেলাও! আমি তো জানিও না, আমাকে তো বলেও নাই। সব ভেঙে (স্থাপনা) দাও। যে নিছে তাকে ডাক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। তারা সবুজায়নের কথা বলে এভাবে করবে, তা তো আমি কল্পনাও করিনি। এরপর মেয়রের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন।
এ সময় দোকানের অবকাঠামো গড়ে ওঠা অংশ দেখিয়ে কয়েকজন মেয়রকে জানান, এখানে বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্থা ছিল। এগুলো (অবকাঠামো) দুয়েক মাসের মধ্যে তুলে ফেলেছে। এরপর মেয়র কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এটা একটা গ্রিন পার্ক করে দেন, যেখানে মানুষ বসবে।
এরপর ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কাতালগঞ্জে এখানে এভাবে যারা স্থাপনা করছে, আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি সব ভেঙে ফেলা হবে। যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি বলেন, এখানে বাচ্চাদের জন্য একটা সবুজ পার্ক হবে। এখানে বাচ্চারা এবং লোকজন রমনা পার্কের মতো বসবে। এখানে বিশ্রাম নেবে এবং এই গাছপালা সব ঠিক থাকবে। কোন ধরনের গাছ এখানে কেউ কাটতে পারবে না। এখানে একটা সুন্দর সবুজ মনোরম পার্ক স্থাপন করা হবে।
মেয়র বলেন, পথচারী আছেন, এখানে হসপিটালে রোগী আসে। অনেক সময় তারা একটু বসতে চায়। তারা একটু মনোরম পরিবেশে একটু সময় কাটাতে চায়। তাদের কোনো স্থান নেই। যারা দূর–দূরান্ত থেকে আসবে তাদের বিশ্রামের জন্য এই পার্কটা কাজে আসবে।
মেয়র বলেন, এখানে যারা স্থাপনা করছে আমি তাদেরকে বলতে চাই, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি যে স্থাপনা করেছে সব ভেঙে দেওয়ার জন্য আমি বলেছি। অনতিবিলম্বে এগুলো ভেঙে দিয়ে এখানে একটা সুন্দর সবুজ পার্ক এবং বাচ্চাদের জন্য একটা পার্ক নির্মাণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল আজাদীর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চকবাজার–মুরাদপুর সড়কের কাতালগঞ্জে রাস্তার পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। এ প্রতিবেদন দেখে গতকাল কাতালগঞ্জে যান মেয়র। জনস্বার্থে মেয়রের দ্রুত অ্যাকশন দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। তারা বাণিজ্যিক স্থাপনার পরিবর্তে গ্রিন পার্ক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান মেয়রকে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।














