কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ডর দেখানোর সুযোগ নেই

শুভেন্দুর পাল্টায় হুমায়ুন | মঙ্গলবার , ১২ মে, ২০২৬ at ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুততর করতে জমি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার, সেটা নিয়ে প্রয়োজনে যথাযথ জায়গায় আলোচনার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, নির্বাচনি বক্তব্য আর বাস্তবিক সরকার পরিচালনা দুটো ভিন্ন বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নির্বাচনি বক্তব্যের ধারাবাহিকতা শাসনকার্যেও রাখছে কি না, তা একটু সময় দিয়ে দেখতে চায় ঢাকা। কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো জায়গা নাই। দেখেন, যদি মানুষের সাথে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বুঝছেন? বাংলাদেশের সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না, যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব। মানুষে মানুষে সম্পর্ক চাইলে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রে ভারত সরকারকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখন পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার নতুন গঠিত হয়েছে, নির্বাচনি বক্তব্য উগ্র হতে পারে, অনেক সময় নির্বাচনে জেতার জন্য অশোভন কথাও মানুষ বলে। কিন্তু বাস্তবিক সরকার পরিচালনা একটা ভিন্ন বিষয়। দেখি, আমরা একটু সময় দিই; রেটরিক আর গভার্নেন্সে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার একই জিনিস এগিয়ে নিতে চাচ্ছে কি না। আর আমাদের সম্পর্ক তো প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে থাকে। এখানে আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে ঢুকতে চাই না। এরপর কাঁটাতার নিয়ে ভয় না পাওয়ার বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে মানুষ হত্যা করলে ঢাকা বসে বসে দেখবে না।

তিনি বলেন, এখানে আগে যেসব কাহিনীগুলি দেখেছি, মানুষ অনেক হত্যা করে ফেলা হয়। কাঁটাতারে লাগায়া আপনি ফেলে রাখবেন, যেগুলো আমরা আগে দেখেছি হাসিনার সময়। ওই নমুনায় তো বর্ডার কোনোদিন ইনশাআল্লাহ আসবে না। ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ সেই জঘন্য গোলামির বাংলাদেশ না যে, বসে দেখবে। এই বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে কী করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আশা করি, ওই পথে যাবে না।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গও টানেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়, প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চায় এবং সবাই একটা আন্তরিক অবস্থায় থাকতে চায়। চ্যালেঞ্জ থাকবেই। দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া এক সন্ত্রাসী হাসিনা এখন আছে ভারতে, ভারতের সার্বভৌম জায়গায়। ওইটাও বজায় রাখতে হবে যে, ভারতের সার্বভৌম জায়গায় থেকে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি যেন না করা হয়; যাতে তাকে কোনো সুযোগ না দেওয়া হয়। আমরা আশা করি এবং আশ্বস্তও আমরা হয়েছি ভারতের সরকার থেকে যে, ওই সুযোগটা তারা দেবে না।

দুদেশের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই, আমরা বলছি যে, দুদেশের নেতৃত্বের মনোভাব ও অঙ্গীকার সেখানে অবশ্যই থাকতে হবে এবং চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। অবশ্যই সেখানে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিছু ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে, সংলাপের দরজা যখন খোলা আছে, তখন এটার সমাধানে আপনি কিছু উদ্যোগ নিতে পারবেন। কিছু দ্রুত সমাধান হবে, আর কিছুতে সময় লাগবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে বিএসএফকে জমি দিচ্ছে শুভেন্দু সরকার
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী