ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত জন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর বাংলানিউজ ও বিডিনিউজের।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি একেবারেই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌজন্য বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।
হোটেল মালিক লাপাত্তা : কলকাতায় যে আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, সেই ‘শিখা ইন’র ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনো কোনো হদিশ মেলেনি।
আনন্দবাজার লিখেছে, আবু জাফর ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের নাম–পরিচয় জানানো হয়নি। সূত্রের বরাতে পত্রিকাটি বলছে, এ দুজনের মধ্যে ‘শিখা ইন’ লাগোয়া হোটেল ‘যাপন’র এক কর্মী রয়েছেন।
মঙ্গলবার গভীররাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত হোটেলটিতে সূত্রপাত হওয়া আগুন পরে আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যখন লাগে, হোটেলের অতিথিরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলের ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আতঙ্কিত অতিথিরা ছুটাছুটি শুরু করেন।












