কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে হাজিরা দিতে আসা লিয়াকত আলী নামে বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় ওই বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তার চাচাতো ভাই মাইনুদ্দীন (৩৭) নামে একজনসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী তার লোকজন নিয়ে একটি মামলার হাজিরা দিতে আদালত প্রাঙ্গণে যান। হাজিরা দিয়ে আদালত ভবন থেকে বের হতেই ৪/৫ জনের একদল লোক লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লিয়াকত আলী আদালত থেকে বেরিয়ে ফটকে এসে দাঁড়ালে একজন প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। লিয়াকত আলী দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলি লাগে তার চাচাতো ভাই মাইনুদ্দীনের পায়ে। এ সময় লিয়াকত আলীর লোকজন গুলি করতে আসা জিয়াউল হককে ধরে ফেললে অস্ত্রধারীদের আরেকজন গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামে একজনকে আটক করে লিয়াকতের সঙ্গে থাকা লোকজন। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তার প্রতিপক্ষরা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। এর ধারাবাহিকতায় লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসলে এই হামলা চালানো হতে পারে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। অস্ত্রধারী কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে।
হামলার শিকার বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় গুলি করে ও কুপিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল স্থানীয় একটি বাহিনী। আজ (গতকাল) আদালত প্রাঙ্গণে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন, কুতুব উদ্দিনসহ কয়েকজন গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কয়েকটি দল অভিযান ও তদন্তে নেমেছে। হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকটি ক্লু নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি ক্লু পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষের লোকজনও হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে। এছাড়া রামুর গর্জনিয়াকেন্দ্রিক একটি পক্ষের সাথে লিয়াকতের দ্বন্দ্বের তথ্য পাওয়া গেছে। সবকিছু সামনে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
বিডিনিউজ জানায়, গুলিবিদ্ধ মাইনুদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজার শহরের লিংক রোড এলাকায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ পূর্ব দিক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। পরে জানালা দিয়ে দেখি, একটি সাদা রঙের দামি গাড়ির পাশে দুজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। একজন দৌড়ে আদালতের ভেতরে ঢুকে যায়। তার ভাষ্য, পরে পুলিশ হালকা গড়নের এক যুবককে ধরে গাড়িতে তোলে। শুনেছি তার কাছ থেকে বিদেশি রিভলভার ও ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে।
আব্দুর রশিদ বলেন, সম্ভবত জহির হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে আসা পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আদালত তো সবার জন্য নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু আদালত প্রাঙ্গণে যদি এভাবে দিবালোকে গুলি চলে, তাহলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও বিচারক কেউই নিরাপদ নন। তিনি আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবেশপথে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় আর আদালতের মাঝখানে এ ধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।











