কক্সবাজারে কমেছে পর্যটক

ধর্ষণের বিরূপ প্রভাব

আহমদ গিয়াস ও সুনীল বড়ুয়া, কক্সবাজার | শুক্রবার , ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

সাম্প্রতিক একটি ধর্ষণের ঘটনায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে। যে কারণে আজ শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) ২০২১ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিনে অর্থাৎ থার্টি ফার্স্ট নাইটে নববর্ষ বরণে প্রতি বছরের মতো আশানুরুপ পর্যটক নেই।

ফলে এ রকম একটি বিশেষ দিনেও কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজে ফাঁকা রয়েছে অর্ধেকেরও বেশি কক্ষ।

হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি বছর থার্টি ফার্স্ট নাইট ও নববর্ষ উদযাপনে কম হলেও লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন কিন্তু সম্প্রতি এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার কারণে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। এ কারণে তারা হতাশ।

কক্সবাজার কলাতলীর হোটেল কক্স-ভিউ রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “অন্যান্য বছর এই দিনে শতভাগ বুকিং হলেও আজ অর্ধেকের বেশি কক্ষ ফাঁকা।”

তিনি বলেন, “সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে যে কারণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”

কলাতলীর হোটেল সী উত্তরা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওসমান গনি বলেন, “অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের চিত্র ভিন্ন। পুরো কক্সবাজারের কোনো হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজে আশানুরুপ পর্যটক নেই। করোনাকালের দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে আমরা মনে করেছিলাম পর্যটনে কিছুটা সুদিন আসবে কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় এবারও কক্সবাজারে আশানুরুপ পর্যটক নেই।”

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “বাস্তবতায় কক্সবাজারে কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই। সম্প্রতি যেটি ঘটেছে এটি বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তিনি বলেন, “সম্প্রতি খাবারের দাম বেশি নেওয়া এবং ধর্ষণ এ দু’টি ঘটনায় কক্সবাজারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।”

আগের মতো ভিড় ছিল না সৈকতেও। সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে অন্যান্য বছর এই দিনে পর্যটকের ঢল নামলেও এ বছর তেমন ভিড় ছিল না।

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা হয় ঢাকার উত্তরা থেকে আসা স্কুল শিক্ষক টুম্পার সাথে।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনা শুনেছি। তবে এখানে আসার পর এতটা অনিরাপদ মনে হয়নি। তবু আমাদের এটাই প্রত্যাশা সমুদ্র সৈকত যেন সবার জন্য নিরাপদ হয়। বিশেষ করে নারীরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে।”

ময়মনসিংহ থেকে আসা পর্যটক মো. জুলহাস বলেন, “কক্সবাজার তো বাংলাদেশের অসাধারণ একটি জায়গা। এখানে এলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। সৈকতের বিশালতায় কে না হারিয়ে যায় কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা এখানকার সবকিছু যেন পর্যটকবান্ধব হয়।”

নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক আলহ্বাজ জসীম উদ্দিন বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাটি সবাইকে নাড়া দিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

তিনি বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বললেই সবার কাছে অন্যরকম আবেদন বয়ে আনে। মানুষের কক্সবাজারের প্রতি সেই ভালোবাসা যেন অব্যাহত থাকে। সেভাবেই কক্সবাজারকে গড়তে হবে।”

তবে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনার কিছুটা প্রভাব আছে। তবে এ ধরনের ঘটনার যেন কোনোভাবেই পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সজাগ রয়েছে।”

তিনি বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আশপাশের যেসব পর্যটক কেন্দ্র রয়েছে সেখানেও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকেরা যেন নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সমুদ্র সৈকত সহ আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। তাদের সকলের লক্ষ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া।