এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে হতে হবে, লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার : শিক্ষামন্ত্রী

পরীক্ষকরা ঠিকভাবে খাতা দেখছেন কিনা খতিয়ে দেখা হবে

| মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর শিক্ষাবর্ষের মধ্যে এসএসসি এবং এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে আবার নিজের চিন্তার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার জানুয়ারিডিসেম্বর সেশন পুরোপুরি কার্যকর করার চেষ্টা করছে। আগামী বছরগুলোতে পরীক্ষা আরও সঠিক সময়ে এবং এগিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে শিক্ষার্থীদের এক বছর সময় নষ্ট না হয়। খবর বাংলানিউজের।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেশন যদি জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর হয় তাহলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে চাই। এসএসসিতে এক বছর এবং এইচএসসিতে আরেক বছর সময় নষ্ট হয়। আমরা এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই। শিক্ষাবোর্ডগুলো ডিসেম্বরে আরেকটি এসএসসি পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত বা সক্ষম কিনাপ্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা আমরা প্রস্তুত কিনা সেটা বিষয়। কোন বছরের ডিসেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা চালু হবেজানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক পরীক্ষা যে সময়ে হয় সেই সময়ে হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে হতে হবে, লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। ডিসেম্বরে পরীক্ষা না হলে বোর্ড শাস্তি পাবে, শিক্ষকরা শেষ করতে না পারলে তারা শাস্তি পাবে।

পরীক্ষকরা ঠিকভাবে খাতা দেখছেন কিনা, খতিয়ে দেখা হবে : বিডিনিউজ জানায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পরীক্ষকরা ঠিকভাবে দেখবেন কিনা, এবার তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, খাতা দেখার পদ্ধতি ঠিক আছে কিনা এটা ইতোপূর্বে কখনো এই বিষয়গুলোকে খতিয়ে দেখা হয়নি। কোন শিক্ষক কঠিন মার্ক দিয়েছেন, কোন শিক্ষক ঠিকমত কাজ করেননি, কোনো শিক্ষক হয়তোবা সময়ের অভাবে বর্গা খাতা দেখিয়েছেন। এই সমস্ত বিষয়গুলোকে আমরা আলোচনায় এনেছি। শিক্ষকদের খাতা দেখার জন্য সময় নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বোর্ডগুলো যে খাতা দেখার জন্য এঙামিনারকে সিলেক্ট করে এবং তাদেরকে টাইম কম দেওয়া হয় এর কোন পরিসংখ্যান নেই। একজন শিক্ষকের ৩০০ খাতা দেখতে তার কতদিন সময় লাগতে পারে সেগুলোকে আমরা এবারআনুপাতিক হারে কতটুকু সময় লাগতে পারে সেগুলি বিবেচনা করে তাদেরকে এনাফ সময় দেওয়া হচ্ছে এবং এঙামিনার বাড়ানো হচ্ছে। যাতে খাতাগুলো সুন্দরভাবে দেখেন। আমরা প্রত্যেকটি বোর্ডের কিছু কিছু খাতা আমরা র‌্যানডম স্যাম্পলিং করব যে এঙামিনাররা ঠিকমত খাতা দেখছেন কিনা। বাট ইটস নট এ থ্রেড টু স্টুডেন্ট। এটা এঙামিনার পরীক্ষা করব আমরা। সেটি একটি বিষয় এবার আমরা করতে যাচ্ছি।

এবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক নম্বর দেওয়ার বিধানও রাখা হচ্ছে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো ইনস্ট্রাকশন দেইনি এবং খাতা যেইভাবে লিবারেল ওয়েতে দেখতে হবে সেটাই তারা দেখবে। একটি প্রশ্নের উত্তর যদি ১০টি লাইন থাকে নয়টি যদি ঠিক হয়, যেইভাবে পারশিয়ালি নম্বর দেওয়া সেই সঠিকভাবেই দিতে হবে। এখানে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এসএসসিতে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন আমরা নজরদারী করছি, সাইবার ক্রাইম যারা করবে; যারা প্রশ্নপত্র থানা থেকে বা ট্রেজারি থেকে উত্তোলন করবে তাদের ফোন নম্বর রেখে তারা কোন ক্রাইম করছে কী না তাদের লিস্ট আমরা নিয়েছি। আমরা প্রত্যেকটা পরীক্ষা কেন্দ্রের থেকে তাদের যে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এগুলি সচল না অচল, বাউন্ডারি ক্যামেরাগুলো এগুলি সব আমরা মনিটরিং করার জন্য নিয়েছি এবং আমাদের মনিটরিং সেল এই রুমে থাকবে আমাদের মাদ্রাসার কনফারেন্স রুমে থাকবে। আমাদের প্রাইমারি এডুকেশন কনফারেন্স রুমে থাকবে। আমরা মনিটরিং সেল করেছি। সেখান থেকে মনিটরিং করব। এর মধ্যে কিছু হয় কিনা সেজন্য আমরা এখনো খুব সুন্দরভাবে এসব অর্গানাইজ করেছি। ডিস্ট্রিক্ট ওয়েতে আমরা একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করেছি। ওই গ্রুপে ডিসি ইউনো, এসপি পুলিশ এবং স্কুল কলেজের সচিবদেরকে নিয়ে। হয়াট নট? উই এড্রেস এভরিথিং। এমনকি সাইবার ক্রাইম কিভাবে কন্ট্রোল করা যায়; এজন্য সাইবার স্পেশালিস্টদের কাছে ওই নম্বরগুলো আমি পাঠিয়ে দিয়েছি।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট যাতে না হয় সেজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্কুলছাত্রকে অপহরণ, আসামি গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধঅবশেষে নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ