ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের পাল্টা হামলা

ট্রাম্পের আহ্বানে পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত বন্ধের ঘোষণা

আজাদী ডেস্ক | মঙ্গলবার , ৯ জুন, ২০২৬ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও সরাসরি হামলাপাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়ায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এর জবাবে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর দুই দেশই আপাতত হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল তেহরান। সেই সতর্কবার্তার ধারাবাহিকতায় গত রোববার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দাহিয়া এলাকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আজ রাতের অভিযান একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হবে এবং তা অঞ্চলের সব আমেরিকানজায়নবাদী লক্ষ্যবস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

ইসরায়েলে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসরায়েলকে সংযত থাকার পরামর্শ দিচ্ছিল। কিন্তু সেই আহ্বান কার্যত উপেক্ষা করে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি জানান, হামলার কিছুক্ষণ পরই রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্পাহান ও তাবরিজেও বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যম। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেওয়া শুরু করেছে।

এর আগে তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ফলে নতুন করে বড় আকারের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গতকাল সোমবার সকালে ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর মাহশহরে অবস্থিত কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির কারখানায় বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো ও জ্বালানিসম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুকেও হামলার আওতায় আনা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সরাসরি ইরানের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনায় আঘাত হানল। বিশ্লেষকদের মতে, মাহশহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেঙে হামলা ইঙ্গিত দেয় যে, সংঘাত শুধু সামরিক স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত রোববার মন্তব্য করেন যে, ইসরায়েল ও ইরানের সামপ্রতিক হামলাপাল্টা হামলা তার প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। ট্রাম্প বিভিন্ন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ইরানের হামলার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট দেন ট্রাম্প। এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে। পরবর্তী আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান ও ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনিবন্ধন চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
পরবর্তী নিবন্ধচবির ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন উদ্বোধন আজ