নগরীর ইপিজেড এলাকা থেকে চুরি হওয়া হৃদয় নামের শিশুটি চারবার হাতবদল হয়েছে এবং তিনবার বেচাকেনা হয়েছে। অবশেষে গত বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শিশুটিকে ফেনী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন নারীসহ ছয়জনকে বুধবার গ্রেপ্তার করেছে ইপিজেড থানা পুলিশ।
এরা হল– সুমি শীল (৪৫), লাকী আক্তার (৩৭), মো. আকিব (১৯), বেলাল হোসেন (৪০), হাবিবুর রহমান মজুমদার (৩৩) এবং রোজিনা আক্তার (৩২)। সংঘবদ্ধ শিশু চোর চক্রের সদস্যদের মধ্যে সুমি, লাকী ও আকিব মিলে শিশুটিকে চুরি করে এবং বাকি তিনজন বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিএমপির উপ–কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা আজাদীকে বলেন, শিশুটি চারবার হাতবদল হয়েছে এবং তিনবার বেচাকেনা হয়েছে। প্রতিবারই দর বেড়েছে এবং সর্বশেষ দর উঠেছিল ৩০ হাজার টাকা।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম আজাদীকে জানিয়েছেন, নগরীর ইপিজেডের জোড়া খাম্বা এলাকায় শিশুটির বাসা। তার মা পোশাক শ্রমিক ও বাবা দিনমজুর। তাদের সাত বছর বয়সী আরও একটি মেয়ে আছে।
গত ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ভাই হৃদয়কে নিয়ে তার বোন তাদের বাসার অদূরে রেললাইন সংলগ্ন সাইক্লোন শেল্টারের কাছে খেলতে গিয়েছিল। এসময় দুই নারী গিয়ে শিশুটির বড় বোনকে ২০ টাকা দিয়ে চকলেট কিনতে দোকানে পাঠায়। এ সুযোগে তারা হৃদয়কে নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রবিউল ২৬ জানুয়ারি ইপিজেড থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, দুই নারীসহ তিনজন শিশুটিকে কোলে নিয়ে রিকশা করে চলে যাচ্ছে। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম থেকে সুমি সরকার, লাকী বেগম ও মো. আকিব নামে তিনজনকে পতেঙ্গা এলাকা থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে ৩০ হাজার টাকায় ফেনীতে বেলালের কাছে বিক্রির তথ্য দেয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত শিশুটির বাবা–মাকে নিয়ে ফেনীর দাগনভূঁইয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলালকে আটক করে পুলিশ। বেলাল জানায়, সে শিশুটিকে হাবিবের কাছে দিয়েছে। হাবিবকে আটকের পর সে শিশুটিকে রোজিনার কাছে দিয়েছে বলে জানায়। পরে দাগনভূঁইয়া উপজেলার মাছুমপুর থেকে রোজিনাকে আটক করে শিশুটি উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রানা প্রতাপ বণিক জানান, গ্রেপ্তার ছয়জন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা মূলত নিম্ন আয়ের লোকজনের সন্তানদের টার্গেট করে তাদের বাচ্চা চুরি করে এবং নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে। যেসব শিশু ছোট এবং কথা বলতে পারে না, তাদের টার্গেট করে, যাতে সহজেই চুরি করে বিক্রি করে দেয়া যায়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ছয়জনকে শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। দু’জন চুরির দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান।











