মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার মতো বড় ধরনের যান্ত্রিক জটিলতা পেরিয়ে সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট’ স্পেসএঙের স্টারশিপ। মহাকাশে প্রথম কক্ষপথ প্রদক্ষিণ ও প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে টেঙাস থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়েছে স্পেসএঙের পরবর্তী প্রজন্মের এই রকেট। ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানির তৈরি স্টারশিপের এটা ১৪তম উৎক্ষেপণ। এ বছরের শেষদিকে নিয়মিত বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরিকল্পনা সামনে রেখেই এ পরীক্ষামূলক অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মহাকাশযানটিতে একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় এর কক্ষপথে পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুসারে কাজ চালিয়ে গেছে স্পেসএঙ। মেঙিকো উপসাগরের তীরে ব্রাউনভিলের কাছে স্পেসএঙের ‘স্টারবেইস’ কমপ্লেঙ থেকে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে ৪০ তলা সমান উঁচু এই মনুষ্যবিহীন রকেটটি গর্জে ওঠে। রকেটটির প্রধান অংশ দুটি, যার নিচে ‘সুপার হেভি বুস্টার’ ও উপরে মূল স্টারশিপ ভেসেল। খবর বিডিনিউজের।
স্পেসএঙের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলোর উৎক্ষেপণ কার্যক্রম আরও ঘন ঘন পরিচালনা করা ও ভবিষ্যতে নাসা’র চন্দ্রাভিযান সফল করার উপযোগী করে স্টারশিপটি তৈরি হয়েছে। ১০ ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রায় রকেটটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে, যা হবে স্টারশিপের এ পর্যন্ত দীর্ঘতম যাত্রা। চিলির পশ্চিম উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে এসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এই যাত্রা। মহাকাশে যে কোনো নতুন রকেটের পেলোড বা বোঝা বহনের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য কক্ষপথে পৌঁছানো অন্যতম প্রধান মানদণ্ড।
স্টারশিপের জন্য এই মাইলফলক স্পর্শ করা বেশ দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে গেল। মাস্ক একসময় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যেই এটা সম্ভব ও ২০২৩ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো শুরু হবে। তবে ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্টারশিপের আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণই সাব–অরবিটাল বা বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের মহাকাশ সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রায় এক দশক ধরে চলা এ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এ পর্যন্ত স্পেসএঙের খরচ হয়েছে ১৫০০ কোটি ডলারের বেশি।











