স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক এবং দৈনিক আজাদীর সাবেক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ – এই দুই মনীষীর স্মরণে গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইঞ্জিনিয়ার খালেক – অধ্যাপক খালেদ শিশুমেলা’। সাপ্তাহিক স্লোগান পত্রিকার আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব, দৈনিক আজাদী পত্রিকার মাননীয় সম্পাদক এম. এ. মালেক। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক স্লোগান পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ জহির। আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর রীতা দত্ত, হামিদুর রহমান, নেছার আহমদ এবং অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্ত্তী। তাঁরা বলেন, বর্তমান এই প্রযুক্তি নির্ভর সময়ে শিশুদেরকে বই, সাহিত্য এবং শিল্প– সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। উদ্বোধনী বক্তব্যে এম. এ. মালেক বলেন – আমাদেরকে সব সময় স্বপ্ন দেখতে হবে, আশা এবং স্বপ্ন দ্রুত মানুষকে তার লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন – আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। ‘Impossible’ বলে কিছু নেই শব্দটিকে ভাঙলে আমরা দেখতে পাই ‘I am possible’ কোনো কাজকে সম্ভব করতে হলে পরিশ্রম করতে হবে। প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে কবি সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিশু এবং অভিভাবকদের পদচারণায় ছিল মুখরিত। বিভিন্ন বিভাগে আবৃত্তি এবং চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। এ বছর নতুন সংযোজন – ‘ইঞ্জিনিয়ার খালেক – অধ্যাপক খালেদকে যেমন জেনেছি’ – এ বিষয়ের ওপর বড়রাও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সদস্যদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় বৃন্দআবৃত্তি, গান, নৃত্য, অভিনয় এবং গল্প বলা। তাদের পরিবেশনা ছিল চমৎকার। জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে তারা তাদের পরিবেশনা সমাপ্ত করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘পুরস্কার বিতরণ’। পুরস্কার বিতরণ পর্বে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আজাদী’র পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। তিনি বলেন, সুন্দর দেশ গড়ার জন্য সুশিক্ষা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য। এ পর্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ সাহিত্যিক ড. আনোয়ারা আলম, অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্ত্তী, অধ্যাপক বিচিত্রা সেন এবং প্রাবন্ধিক নিজামুল ইসলাম সরফী। তাঁরা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ সম্মানী, সনদপত্র এবং বই তুলে দেন। উল্লেখ্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাড়াও অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে বই উপহার দেওয়া হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শকরা তুমুল করতালির মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করেন। সমাপনী পর্বে কবি রাশেদ রউফের পরিচালনায় এবং কবি দীপক বড়ুয়ার সভাপতিত্বে স্বরচিত লেখা পাঠে অংশগ্রহণ করেন বিপুল বড়ুয়া, সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, আজিজ রাহমান, ইসমাইল জসীম, অমিত বড়ুয়া, অপু চৌধুরী, সৈয়দা সেলিমা আকতার, প্রীতিশ রঞ্জন বড়ুয়া, রিনিক মুন, প্রতিমা দাশ, পুস্পিতা সেন, সোমা মুৎসুদ্দী, তানভীর হাসান বিপ্লব, লিপি বড়ুয়া, সিমলা চৌধুরী, নেভি বড়ুয়া, কানিজ ফাতেমা লিমা, সৌভিক চৌধুরী, পুলক চন্দ, বিকাশ বড়ুয়া, তাওহীদুল ইসলাম নুরী, তটিনী তনু, শুকলা আচার্য্য, শর্মিষ্ঠা চৌধুরীসহ আরো অনেকে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী আয়েশা হক শিমু। অসাধারণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আয়োজকদের জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ।












