আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিকের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

দ্রুত বাস্তবায়নে নির্দেশনা মেয়রের

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ২ জুন, ২০২৬ at ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ

আগামী বর্ষায় নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরের যে সমস্ত পয়েন্টে গত বছর জলাবদ্ধতা হয়েছিল সেগুলোকে চিহ্নিত করা এবং আগামী বর্ষায় সেখানে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ করে কাজ করা। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড কনস্ট্রাকশনের সাথে কথা বলে পয়েন্টগুলোতে পানি অপসারণের জন্য পাম্প বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ। এছাড়া ৮১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে সিসিটিভির আওতায় এনে প্রবল বর্ষার সময় মনিটরিং করা যায়। বর্ষায় দুর্ঘটনা রোধে যে সমস্ত স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে অথবা নেই, সেগুলোতে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনের ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন খাল ও নালার পাশে সুরক্ষার জন্য র‌্যালিং নির্মাণ করা।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল টাইগারপাস চসিক কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রধানদের সাথে সমন্বয় সভা করেন মেয়র। সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। এ সময় মেয়র সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিতে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেন।

সভায় পরিচ্ছন্ন বিভাগের জন্য করণীয় ঠিক করে দেন শাহাদাত হোসেন। তিনি নগরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রত্যেকটি জোনের কোন কোন অংশ থেকে ময়লা অপসারণ ব্যাহত হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে যে সমস্ত স্থানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নেই, সেগুলোতে এসটিএস স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন।

সভায় রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে মেয়র বলেন, বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাপ্য রাজস্ব যাতে নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। এছাড়া যে সমস্ত কন্টেনার ইয়ার্ডের রাজস্ব নির্ধারণ করা বা পুনর্নির্ধারণ প্রয়োজন সেগুলোকেও রাজস্ব যথাযথভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় গত কয়েক বছরে কতগুলো ফ্ল্যাটের মালিকানা নিবন্ধিত হয়েছে, সেগুলো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় এসেছে কিনা, সেগুলোর জন্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেন মেয়র। এ সময় প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার করা প্রয়োজন জানালে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো সংস্কারের নির্দেশনা দেন মেয়র।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআরো ৩ শিশুর মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা