আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।’ খবর বিডিনিউজের।
এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে সদ্য শেষ হওয়া দুর্গাপূজার প্রসঙ্গও এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় সমপ্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি। অতীতে এই দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক রকমের দুর্ঘটনা হয়েছে, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে। এ সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি। আশা করি আগামীতে এ পরিবেশ বজায় রাখতে পারবো সকলের সহযোগিতা নিয়ে।’ প্রথমবার সর্বোচ্চ পূজামণ্ডপ হয়েছে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে। এবার তাদের জন্য যে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটা বেড়ে ৫ কোটি করা হয়েছে। সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন আছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ে অনেকগুলো গ্রুপ আছে। এখানে জনসংহতি সমিতি ছাড়াও আরও দুইটা একই নামে আছে, রিফর্মিস্টসহ কয়েকটি আছে, তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। এই পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে তারা পাহাড়ি কিছু জায়গা, কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সকল প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যায় থেকেও আলাপ আলোচনা চলছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য পাশ্ববর্তী দেশে কয়েকদফা চিঠি দিয়েছি।’ অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অতীতে তাদের অপপ্রয়াস চালু ছিল। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটা তাদের স্ট্র্যাটেজিতে করতেই পারে। তবে আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতার সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এদেশের শতশত নাগরিককে হত্যা করেছে তাদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চলবে, সেটা হতে দেব না।’
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে স্বরামন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করার চেষ্টা করে। সেখানে টহলরত পুলিশ ছিল। তাদের সংখ্যা কম ছিল। এখানে হামলা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’












