আঁধারে আলোর দ্যুতি, পুণ্য মহালয়া

অপু চৌধুরী | রবিবার , ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ

‘বাজলো তোমার আলোর বেণু মাতলো যে ভুবন
আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিনু মন।
অন্তরে যা লুকিয়ে রাজে, অরুণ বিনায় সে সুর বাজে
এই আনন্দ যজ্ঞে সবার মধুর আমন্ত্রণ।’
আজ পুণ্য মহালয়া, আঁধারের কালিমা ঘুচাতে মহা শক্তির ধ্বজাধারী আলোকময় শ্রী শ্রী মা দুর্গা দেবীর আগমন বার্তার এই আনন্দ আয়োজনে সকলের উপস্থিতি স্বর্গীয় দ্যুতি ছড়াবে এই মর্ত্যে। পিতৃপক্ষের শেষান্তে আঁধার অমাবশ্যার প্রাচীর গলে দেবী পক্ষের আলোকময় আগমন মুহূর্তে নৈসর্গিক ধরাধামে উপলব্ধ পুণ্যলোকে তুষ্টি কীর্তির নান্দনিক এক নাম ‘মহালয়া’। সনাতন শাস্ত্রমতে যেকোনো শুভকাজের প্রারম্ভে প্রয়াত পূর্বপুরুষের আত্মার তুষ্টি কল্পে জল নিবেদন করে শান্তি কামনা করা হয় সেমতে রামায়ণ অনুসারে রামচন্দ্র অকালে দুর্গা দেবীকে জাগরিত করতে অর্থাৎ দেবীকে পুজো নিবেদন করার পূর্বে প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পনাদি সম্পন্ন করেছিলেন আর তাতেই মা দুর্গা দেবী রামচন্দ্রের ডাকে অকালেই সারা দিয়েছিলেন, সুতরাং তর্পণ আর দুর্গাদেবীর আগমন লগ্ন এক পবিত্র মূহুর্তের নাম মহালয়া। এই মহালয়ার পুণ্যময় মূহুর্তে সয়ং দেবীই মহান আশ্রয় হয়ে পিতৃলোককে আলোকময় করে গড়ে তোলেন। শরতের স্নিগ্ধ কুয়াশা আবৃত মর্ত্যের ঘরে ঘরে বেজে ওঠে শাঁখের নিনাদ। মর্ত্যে জীবিত উত্তরসূরীর এমন মোহনীয় ডাক শোনে প্রয়াতের বিদেহী আত্মা নেমে আসেন মহালয় সমাবেশে।
মহালয়ার আরেক মানে হচ্ছে মহামায়া দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার আগমনী দিনক্ষণ গোনা। সনাতন ধর্ম মতে এমন পুণ্যদিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সকল সনাতনীদের করতে হয় তুষ্টিক্রিয়া বা তর্পণ, ধূপের ধোঁয়ায় দীপের আলোয় জল অঞ্জলি পেয়ে তৃপ্ত হোন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের বিদেহী আত্মা; ভক্তের এমন আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে সারা দেন জগৎ জননী মহামায়া দুর্গা দেবী। সত্যের জয় মিথ্যার ক্ষয় নিশ্চিত করতে এবং স্বর্গ দুরাচারী, অমরত্ব বর লাভকারী অসুর বংশ ধ্বংস করতে রণমুর্তি ধারণ করেন মা দুর্গা।