অভিজ্ঞ আর্জেন্টিনার সামনে আজ উজ্জীবিত মিশর

ম্যাচ শুরু রাত ১০টায়

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ৭ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

অনেকটা ক্লান্তি নিয়েই এবার শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে শুক্রবার কেইপ ভার্দের বাধা আর্জেন্টিনা পার হয় ৩২ গোলে জিতে। তবে, ম্যাচটি লিওনেল মেসির দলকে খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিট। মিশরের সময় লাগে আরও বেশি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা সমতায় শেষের পর, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ৪২ গোলে জেতে তারা। রিকভারির জন্য দু’দলেরই মেলেনি পর্যাপ্ত সময়। তাই ক্লান্তি নিয়েই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ ৭ জুলাই, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজবেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও মিশর। লিওনেল মেসি বনাম মোহামেদ সালাহর এই হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের সাথে শেষ ৩২এ পৌঁছায়। সেখানে কেপ ভার্দেকে ৩২ গোলে হারিয়ে তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, মিশর বেলজিয়াম ও ইরানের সাথে ড্র এবং নিউজিল্যান্ডকে ৩১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২এ জায়গা পায় এবং অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে ইতিহাস গড়ে। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দলের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে খেলছেন। তবে দলের আগের ম্যাচে ১২০ মিনিট খেলতে হওয়ায় মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ কিছুটা ক্লান্ত থাকতে পারেন, তবে এই ম্যাচে দলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফিরিয়ে আনতে পারেন কোচ স্কালোনি। অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহ মিশরের আক্রমণভাগের মূল ভরসা। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ১২০ মিনিট ওয়ানসাইডেড ম্যাচ এবং পেনাল্টি শুটআউটের ধকল সামলে এই ম্যাচে মাঠে নামা তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। আর্জেন্টিনার বল পজিশন এবং পাসিং একুরেসি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা। তাদের রক্ষণভাগও বেশ জমাট, যারা এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ গোল হজম করেছে। অন্যদিকে, মিশর রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলে সালাহকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক করার চেষ্টা করবে। পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞদের মতে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা সুস্পষ্ট ফেভারিট। তবে নকআউট পর্বে শেষ মুহূর্তের যেকোনো চমকই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। অনুমিতভাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এগিয়ে। তবে প্রস্তুত উজ্জীবিত মিশরও।

গ্রুপ পর্ব আর্জেন্টিনা পার হয়েছিল, অনেকটা অনায়াসে। কিন্তু নকআউট পর্বের শুরুতে, কেইপ ভার্দে পরীক্ষা নেয় স্কালোনির দলের। প্রতিপক্ষের প্রতিরোধের মুখে তাদের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়ে যায়। ফলে, প্রশ্নও উঠতে শুরু করে, ওই ম্যাচের ভুলগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি আসলেই সেগুলো সত্যি। সত্যি হলে, মিশর সেটা কাজে লাগাতে চাইবে। আর্জেন্টিনার সাবেক স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরোর মনে হচ্ছে, কেইপ ভার্দের চেয়ে মিশর আরও বেশি চ্যালেঞ্জ জানাবে মেসিমার্তিনেসদের। কেইপ ভার্দে ম্যাচের পর মেসিও স্বীকার করেছিলেন, ক্লান্তির কথা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে আর্জেন্টিনা জোর চাপ দিতে না পারা নিয়েও হতাশা জানিয়েছিলেন অধিনায়ক। বলার অপেক্ষা রাখে না, ওই ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেইপ ভার্দের পারফরম্যান্স অনুপ্রেরণার উপলক্ষ্য হবে মিশরের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে, রক্ষণে ভীষণ দৃঢ়তা দেখানো মিশর, নির্ভর করেছিল মোহামেদ সালাহ ও ওমার মার্মুশদের পাল্টা আক্রমণের উপর। একই কৌশল আফ্রিকান দলটি নিতে পারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও। ৭ গোল করা মেসি যেমন আর্জেন্টিনার জন্য, তেমনি মিশরের জন্য, শতভাগ ফিট সালাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট দুর্ভাবনা নিয়ে। ১২০ মিনিটের ওই ক্লান্তিকর ম্যাচে, অনেক সময় তাকে খুব একটা পুরো দমে ছুটতে আগ্রহী হতে দেখা যায়নি। আর্জেন্টিনা অবশ্য পুরো শক্তির মিশরকে ভাবনায় রেখে ছক কষছে। দলটির মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস যেমন সতীর্থদের সতর্ক করে দিলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলে। ‘এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ হবে। আমরা ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে আছি এবং সব জাতীয় দলই খুবই ভালো এবং শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী।’ এখন ময়দানি লড়াইয়ের অপেক্ষা। সেখানেই সমাধান হবে কে ভালো আর কে মন্দ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার
পরবর্তী নিবন্ধটানা বৃষ্টির মধ্যেও নগরে তীব্র যানজট