নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আশায় আশায় ১৫ মাস পার করেছেন পদ প্রত্যাশীরা। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু সেপ্টেম্বরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদকের এমন ঘোষণায় সেদিন হল ভর্তি পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এদিকে আগস্ট শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেটাও হলো না। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রায় চার মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ২৮ মে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের, ২৯ মে উত্তর জেলা যুবলীগের এবং ৩০ মে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রত্যেক ইউনিটের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের পর কাউন্সিলরদের নিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই কাউন্সিলর অধিবেশনে কাউন্সিলররা সরাসারি ভোটের মাধ্যমে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করার দাবি জানালে যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শাসম পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল যারা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের দুই গ্রুপে ভাগ করে নিজেদের মধ্যে সমঝোতার জন্য ১০ মিনিট সময় দেন। কিন্ত মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় কেউই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তখন কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় গিয়ে যাচাই-বাছাই করে তিন ইউনিটের কমিটি ঘোষণা দিবেন বলে সকলের বায়োডাটা নিয়ে অধিবেশন শেষ করে চলে যান।
কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় শর্ট লিস্টে রয়েছে ৯ জনের নাম। অপরদিকে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় শর্ট লিস্টে রয়েছে ৭জনের নাম। এদিকে উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৯জন প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় শর্ট লিস্টে রয়েছে ৮ জনের নাম রয়েছে। মূলত কেন্দ্রীয় নেতাদের শর্ট লিস্ট থেকেই যোগ্যতা বিচারে ঘোষণা করা হবে মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বহুল কাঙ্ক্ষিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ। এদিকে সম্মেলনের চার মাসের মধ্যেও চট্টগ্রাম মহানগর-উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি না হওয়ায় আওয়ামীলীগের বৃহৎ এই যুব সংগঠনের কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।
গত বছরের ১৯ জুন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাড়ে ৮ মাস পর গত ৯ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। আংশিক কমিটি দেয়ার এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হলেও গত ৬ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায়নি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দীর্ঘদিন থেকে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন নেতৃত্বে আসার-আশায় আছেন রাজপথের ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতারা। সম্মেলনের ১৫ মাস পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় এসব পদ প্রত্যাশী ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।












