সুরের আকাশে শুকতারা

প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়

রওশন আরা বিউটি

শনিবার , ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
123

রথীন্দ্রনাথ রায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক ও বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের একজন প্রখ্যাত শিল্পী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গাওয়া দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। একজন শব্দসৈনিক হিসেবে তাঁর গাওয়া অনেক দেশের গানই কালজয়ী হিসেবে রূপ পেয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিনি প্রথম গানটি গেয়েছেন আপেল মাহমুদ এর সঙ্গে। বাংলাদেশের একটি টিভি চ্যানেলে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি, আপেল মাহমুদ এর সাথে গাওয়া সেই গানটি নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন – ”ঢাকা থেকে খুব কষ্ট করে, পালিয়ে কলকাতায় গিয়েছেন। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি স্টপেজে বাস থেকে নেমে হেঁটে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড ধরে গেলে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ। হাতের ডানে প্রাইভেট বাড়িটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। নিচতলায় বিএসএফ গার্ড তাঁকে আটকালো। তিনি তাঁর পরিচয় দিলেন, বললেন, তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন, তিনি একজন শিল্পী।’ ঠিক সন্ধ্যার আগে আপেল মাহমুদ এসে তাঁকে ডাকলো,‘ মামু, মামু ওঠ।’ উঠে বললেন, কী হয়েছে ? ‘হাত-মুখ ধুয়ে ওপরের স্টুডিওতে আয়, গানের সুর করছি, তুই খালি একটা টান দিবি।’ ফ্রেশ হয়ে গিয়ে বললেন, ‘আগে গানটি শোনা।’ তখন কিছুই ছিল না, খালি একটি তবলা আর একটি হারমোনিয়াম, অন্য কোনো মিউজিক নেই। এই দিয়ে গান হতো। তাঁকে গানটি শোনালো। সেই বিখ্যাত গান – ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে…’ বিখ্যাত এই গান দিয়েই শুরু হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাঁর শিল্পী জীবন। এসব গান তো এখন ইতিহাস হয়ে আছে বাংলাদেশে। আর সেই ইতিহাসের প্রধান একজন সাক্ষী আমাদের রথীন্দ্রনাথ রায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রেরণাময় গানগুলোর প্রায় সবটাতেই মিশে আছে রথীন্দ্রনাথ রায়’র উদাত্ত গলা।
স্বাধীনতার পর একজন লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে নিজেকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রথীন্দ্রনাথ রায়। বাবার হাত ধরে সংগীত দুনিয়ায় প্রবেশ, ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম প্রধান এক লোকসংগীত শিল্পী। তাঁর বাবা ছিলেন ভাওয়াইয়ার একনিষ্ঠ সাধক, গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। নিজে দোতারা বাজিয়ে গান করতেন। সে সূত্রে তাঁরা ছয় ভাইবোনই গান করতেন। রথীন্দ্রনাথ রায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নীলফামারী জেলার সূবর্ণখুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম হরলাল রায়, মায়ের নাম বীণাপাণি রায়। ছোট্ট বয়সে বাবার খাতা চুরি করে গান গাওয়া শুরু করা রথীন্দ্রনাথ রায় এখনও নিয়মিত তিন ঘণ্টা রেওয়াজ করেন। তাঁর স্ত্রীকে তিনি বলে রেখেছেন ঐ সময় তাঁকে কেউ যেন বিরক্ত না করে।
এমনকি কেউ মারা গেলেও যেন তাঁকে ঐ তিন ঘন্টা পরে জানানো হয়। তিনি বলেন – ‘সঙ্গীত একজন মানুষের আত্মাকে পবিত্র করে। সঙ্গীত চর্চা করতে এলে অসৎ হওয়া যাবেনা।’ রথীন্দ্রনাথ রায়’র স্ত্রী সন্ধ্যা রায় তিনিও খুব ভালো গান করেন। তাঁর মেয়ে চন্দ্রা রায় বাবার পথেই চলেছেন। খুব ছোটবেলায় চন্দ্রার গানের হাতেখড়ি মা সন্ধ্যা রায়ের কাছে হলেও বাবার অনুপ্রেরণায় একেবারে ছোটবেলা থেকেই গান করছেন চন্দ্রা। নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের অডিও জগতে।
১৯৫৬ সাল থেকে তাঁর বাবা ঢাকা রেডিওতে জড়িয়ে পড়েন। মাঝেমধ্যে বাড়ি এলে বৈঠকখানায় প্র্যাকটিসে বসতেন। তখন রথীন্দ্রনাথ রায় খুব ছোট ছিলেন। টু-থ্রিতে পড়তেন, বৈঠকখানায় ঢোকার তাঁর অনুমতি ছিল না। কিভাবে বাবা গান করেন বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখতেন। স্কুল ছুটি হলে ফিরে এসে দেখতেন, বাবা দুপুরের খাওয়া খেয়ে ঘুমোচ্ছেন। জলদি করে খেয়ে ঘরে ঢুকে চাবি চুরি করে ক্যাশবাক্স খুলে তাঁর গানের খাতাটি নিয়ে দুপুরের কড়কড়ে রোদে আধা মাইল-এক মাইল দৌড়ে দূরে চলে যেতেন ছোট্ট রথীন্দ্রনাথ। ক্ষেতের আইলে বসে গতকাল যে গানটি বাবা করেছেন, সেটি বের করে চিৎকার করে গাইতেন। আবার সন্ধ্যায় তাঁর গান প্র্যাকটিসের সময় খেয়াল করে শুনতেন – কোন জায়গায় ভুল হয়েছে কিনা। এভাবে কারেকশন করে গাইতেন।
১৯৬০ সালে প্রথম রেডিওতে গান করেন রথীন্দ্রনাথ রায়, তখন তিনি স্কুলের ছাত্র। ঢাকা রেডিওতে প্রোগ্রাম করতে যাবেন তাঁর বাবা। স্কুল পড়ুয়া রথীন মায়ের কাছে বায়না ধরলেন সেও বাবার সাথে ঢাকায় যাবেন গান গাইতে। তাঁদের মা-ছেলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল কিন্তু বাবাকে ভয় পেতেন তাই মাকে বললেন বাবাকে বলার জন্য। ‘মা বললেন, ‘ বৈঠকখানায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাক। তোর বাবা যখন গানে ব্রেক নিয়ে পান খাবে তখন বলবো।’ রথীন গিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, বাবা পান মুখে দিয়ে ডিরেকশন দিচ্ছেন, এক ফাঁকে থামলে তাঁর মা বেড়ার ফাঁক দিয়ে রংপুরের ভাষায় বলছেন, ‘এই যে, রথীন জানি তোমাকে কী বলবে।’ বাবা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার ? ’রথীন ভয়ে মাথা নিচু করে বললেন, ‘বাবা, মুই ঢাকা যামু।’ বাড়িতে তাঁরা দেশি ভাষায় কথা বলতেন। ‘কেন, ঢাকা যাবি কেন ? গান জানিস ?’ ‘হ্যাঁ, জানি।’ ‘গাও দেখি।’ রথীন গেয়ে ফেললেন। তাঁর বাবা তো আশ্চর্য, বললেন, ‘ঠিক আছে, প্র্যাকটিস কর।’ জীবনে কোনদিন কোন অনুষ্ঠানে গান করেননি, তার পরও ১৯৬০ সালে তিনি প্রথম বেতারে গান করে তাঁর সঙ্গীত জীবন শুরু করেন।
টেলিভিশনের শুরুতে কলিম শরাফী সাহেব টেলিভিশনের চিফ ছিলেন। তাঁর বাবাকে তিনি পছন্দ করতেন, তাঁকে টেলিভিশনের স্টাফ আর্টিস্ট করেছিলেন। তাঁর বাবা একদিন কলিম শরাফী সাহেবকে বললেন, ‘কলিম ভাই, আমার ছেলে তো গান করে। ওকে একটা সুযোগ দেওয়া যায় ? ‘তখনো পূর্ব পাকিস্তানের অনেক নামকরা শিল্পীর টেলিভিশনে গান গাওয়ার সুযোগ হয়নি। কলিম শরাফী সাহেব বললেন, ‘ঠিক আছে, দেখবো।’ তখন ‘বাঁশরি’ নামে পল্লীগীতির একটি অনুষ্ঠান হতো। তাতে বাংলাদেশের সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী ফেরদৌসী রহমানের গান করার কথা ছিল।
তিনি চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। কথা ছিল, বিকেলের ফ্লাইটে ফিরে সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম করবেন, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ফ্লাইট আসেনি। কলিম শরাফী সাহেব তখন বিপদে পড়ে গেলেন, যাকে-তাঁকে দিয়ে তিনি প্রোগ্রাম করাবেন না। তখন সবার বাড়িতে টেলিফোনও ছিল না। হঠাৎ হন্তদন্ত হয়ে এসে তিনি তাঁর বাবাকে বললেন, ‘হরলাল বাবু, আপনার ছেলের কথা বলেছিলেন, ও এসেছে ? ’তাঁর বাবা বললেন, ‘হ্যাঁ, এসেছে।’ ‘এক্ষুণি স্টুডিওতে নিয়ে আসেন।’
তাঁর বাবা স্টুডিওতে নিয়ে গেলেন। কলিম শরাফী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন- ‘তুমি গান গাও ?’ মুখটি পর্যন্ত গেয়েছেন কিন্তু তিনি থামিয়ে দিলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ চলবে। ওকে মেকআপ রুমে পাঠান। রেডি হন। ১৫ মিনিটের চাংক। কলিম শরাফী সাহেব হঠাৎ কি মনে করে আবার বললেন, ‘হরলাল বাবু, দাঁড়ান, কথা আছে। সে তিনটি গান পারবে ? ’তাঁর বাবা বললেন, ‘পারবে।’ ‘এক কাজ করেন, আগে আপনি একটি গান করেন, তাতে ওর ভয় কেটে যাবে। তারপর ও গিয়ে দুটি গান গাইবে।’ এভাবেই তাঁর টেলিভিশনে গান গাওয়া শুরু। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
১৯৬৬ সালে ম্যাট্রিক দিয়ে কলিম শরাফী সাহেব এর আগ্রহে ঢাকায় এসে ঢাকা কলেজে ভর্তি হলেন রথীন্দ্রনাথ রায়। কলীম শরাফী সাহেবকে চাচা বলে ডাকতেন তিনি। কলিম শরাফী সাহেব তাঁকে খুব পছন্দ করতেন। ১৯৬৮ সালে কলেজ থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হলেন রথীন্দ্রনাথ রায়। এর আগে গণ-আন্দোলনেও গান গেয়েছেন তবে কখনো পলিটিকস করেননি। যেখান থেকেই গানের ডাক আসতো তিনি সেখানে গিয়ে গাইতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনুষ্ঠানে গান গাইতেন।
অসংখ্য কালজয়ী গান আমরা তাঁর কণ্ঠে পেয়েছি। সেই তালিকা অনেক বড়। ১৯৬৬ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন খান আতাউর রহমানের জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবি ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবিতে। ‘কন্যা গো আমার ছয় মাসের সফর, বাণিজ্য করতে যাব আমি ফুলতলার শহর…’ কথা ও সুর – মমতাজ আলী খান। দ্বৈত এ গানটিতে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন প্রয়াত মৌসুমী কবির। ছবিটি খুব ব্যবসা সফল হয়। টানা কয়েক মাস প্রেক্ষাগৃহগুলোতে চলে। সংগীত সম্রাজ্ঞী ফেরদৌসী রহমান প্রথম যে ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন তার নাম ‘নোলক’ সেই ছবিতে তিনি গান করেন। ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে/ কি ওরে ওই মতন মোর গাড়ির চাকা পন্থে/ পন্থে ঘোরে রে ওকি গাড়িয়াল মুই চলোং রাজপন্থে…’ গানটির গীতিকার – আবদুল করিম, সুরকার – আব্বাসউদ্দীন আহমেদ, ছবির পরিচালক শিবলী সাদিক। ‘হায়রে কথায় বলে, গাছে বেল পাকিলে তাতে কাকের কী…’ কথা ও সুর – খান আতাউর রহমান। ছায়াছবি – সুজন সখী। ‘হিরামতি হিরামতি ও হিরামতি, আমি যামু সুধারাম কন্যামতি…’ কথা – শহীদুল্লাহ কায়সার, সুর – আলম খান, কবরী ও ফারুক অভিনীত, আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ছায়াছবি – সারেং বৌ। গানটি রেকর্ড হয় ইপসা স্টুডিওতে। এই গানটিও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘তুমি আরেকবার আসিয়া যাও মোরে কান্দাইয়া…’ গীতিকার – গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার – আলাউদ্দিন আলী, ছায়াছবি – নাগরদোলা। নালিশ ছবির গান- ‘খোদার ঘরে নালিশ করতে দিল না আমারে…’, গীতিকার – গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার – আলাউদ্দিন আলী। ফকির মজনু শাহ ছবির গান ‘সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমে রে, আমি বলে কমে…’, গীতিকার – গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুরকার – আলাউদ্দিন আলী। এই গানটিও ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। আলাউদ্দিন আলীর সুরে আরও অনেক গানে প্লে-ব্যাক করেছেন রথীন্দ্রনাথ রায়। তাঁরা দু’জন অনেক ভালো বন্ধু। ‘ও যার অন্তরে বাহিরে কোনো তফাৎ নাই…’ গীতিকার – আব্দুল হাই আল-হাদী, সুরকার – আলাউদ্দীন আলী, ছায়াছবি – অন্ধ বধু। ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা ও আলী হোসেনের সুরে অঙ্গার ছবির ‘আমি পাগল হব, পাগল নেব, যাব পাগলের দেশে…’ গানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়। এরকম আরও অনেক গান আছে যা মানুষের অন্তর ছুঁয়ে গেছে, প্রচুর শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রায় চল্লিশটি ছবিতে গান গেয়েছেন তিনি।
ভাওয়াইয়া জনপ্রিয় করে তোলার জন্য গুণী এই সঙ্গীতশিল্পী রংপুরে ২০০২ সালে ‘ভাওয়াইয়া একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে গাইবান্দা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে এর শাখা আছে। এই একাডেমীর উদ্দেশ্য কম বয়সী ছেলে মেয়েদের ভাওয়াইয়া গান শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাওয়াইয়া গানের প্রচার করা। এ ছাড়া ভাওয়াইয়া সঙ্গীতের দিক নির্দেশনামূলক গবেষণাধর্মী প্রকাশনার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভাওয়াইয়া ও দেশাত্মবোধক গানের বাইরেও তিনি ভজন, কীর্তন, রামপ্রসাদী, শ্যামাসংগীত, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, মারফতি, লালনসহ সিলেটের গীতিকবিদের গান গেয়েছেন নিয়মিত। রথীন্দ্রনাথ রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। ১৯৭৩ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব যুব উৎসব’-এ ১৮০টি দেশের সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতিযোগিতায় দেশাত্মবোধক গানে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছিলেন রথীন্দ্রনাথ রায়। আর এটাই তাঁর সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন। তিনি দুবার ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে ফিল্ম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পুরস্কারে ভূষিত হন এবং ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ‘নাগরদোলা’ (১৯৭৯) এবং ‘অন্ধ বধু’ (১৯৮১)-তে গান গাওয়ার জন্য ‘বাচসাস’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে গুণী এই সঙ্গীত শিল্পী পরিবারসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। তবে মাঝে মধ্যে শেকড়ের টানে ছুটে চলে আসেন দেশে।
লেখক : সংগীত বিষয়ক গবেষক ও প্রাবন্ধিক

x