মাহে রমজানের সওগাত

মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
58

যেকোনো উপায়ে সম্পদ অর্জন আর যেকোনোভাবে সম্পদ বর্জনের নাম যাকাত নয়। নির্ভেজাল সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন, একটি সুন্দর পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ বিসর্জনের নাম যাকাত। দারিদ্র দূরীকরণই যাকাতের কাজ। সাময়িক অভাব পূরণের জন্য ইসলামে সদকা, ফিতরাসহ দানের বিধান আছে।

যাকাত দ্বারা দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে ধনীদের কাছ হতে রাষ্ট্র কর্তৃক বাধ্যতামূলক যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজের ৩০ মাসের শাসনামলে লোকেরা সম্পদ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াত, কিন্তু যাকাতের সম্পদ গ্রহণ করার মতো লোক পাওয়া যেত না। মুসলমানদের যাকাতের মতো অত্যন্ত যুগোপযোগী অর্থনৈতিক বিধান থাকা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্ব গরিব। অথচ আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের অভাব নেই মুসলিম রাষ্ট্রের।

পবিত্র কোরানে নামাজের সাথে রোজা, হজ, কলেমার কথা একসাথে যুক্তভাবে মহান আল্লাহ বলেননি। ৮২ স্থানে নামাজের সাথে যুক্তভাবে যাকাতের কথা বর্ণনা করেছেন। নামাজ, রোজা, হজ হককুল্লাহ বা আল্লাহর হক, যা দয়াময় আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিতে পারেন। যাকাত যেমন আল্লাহর হক, তেমনি হককুল ইবাদ বা বান্দার হক। আল্লাহ ও তাঁর বান্দারা যুক্তভাবে ক্ষমা না করলে মুক্তি পাওয়া যাবে না। যাকাত দেওয়া মোমিনদের বৈশিষ্ট্য, না দেওয়া কাফিরদের বৈশিষ্ট্য। যাকাত কৃপণতা দূর করে, মানুষকে সামাজিক করে, সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে। যাকাতের কারণে পরিবার হতে সন্তানরা ত্যাগের শিক্ষা অর্জন করে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়, সম্পদ পবিত্র হয়।

মানুষে মানুষে ভাগে সমাজে অশান্তি বাড়ে। সম্পদ ভাগ না করলেই সমাজে অশান্তি বাড়ে। লিও তলস্তয় বলেছেন, একজন মানুষ ধনী হওয়া মানে দশজন মানুষ গরিব হওয়া। অথচ আমরা করছি উল্টো। তাই আধুনিক সমাজে বসবাস করেও দিন দিন সমাজে অশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ ‘ইসলাম’ অর্থ শান্তি আর ‘মুসলিম’ অর্থ শান্তিকামী। মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হয় শান্তির অগ্রদূত।

যাকাত দয়া নয়, অধিকার। বর্তমান যাকাত পদ্ধতি দারিদ্র কমায় না, বরং বৃদ্ধি করে। নতুন কাপড় পরে ঈদ করতে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরে কাফনের কাপড় পরে কবরস্থানে যেতে হয়। আল্লাহর বিধান হলো, তুমি যতই উপরে ওঠ, বিল গেটস, টিম কুক, ওয়ার্ম বাফেটের মতো ধনী হও, আদমজি, বাওয়ানী, ইস্পাহানি, মিত্তাল, টাটা, বিড়লার মালিক হও, রাজামহারাজা, প্রধানমন্ত্রীরাষ্ট্রপতি হও, তারপরও তুমি অসহায় রাস্তার গরিব সুইপার, জেলে, কুমার, তাঁতির মতো দারিদ্রের নিকট ঋণগ্রস্ত। তার নিকট হতে তোমাকে ঋণমুক্ত হতে যাকাত প্রদান করতেই হবে। সে গরিব যদি হাজার মাইল দূরেও থাকে, সেখানে গিয়ে তার হক আদায় না করলে সমস্ত সম্পদ হারাম হয়ে যায়। তুমি শ্রেষ্ঠ ধনী। তোমার অহংকার করার কিছুই নেই। কারণ তুমি তো সাধারণ অসহায় মানুষের কাছে ঋণগ্রস্ত। মুসলমানগণ মনে করে, সমস্ত সম্পদের মালিক আমি নই, মহান আল্লাহ পাক। এ ধারণা থাকলে সম্পদের অহংকার করার সুযোগ থাকে না।

x