মাহে রমজানের সওগাত

মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
77

সাওম বা রোজা আল্লাহ পাকের পছন্দনীয় ইবাদত। রোজা আত্মার উন্নতি করে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক সুনিবিড় করে এবং সত্যিকার প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ মোস্তফার (.) উত্তম উম্মত ও আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দায় পরিণত হওয়ার পথ প্রদর্শন করে। সকল প্রকার অত্যাচার, ব্যভিচার, যৌনাচার, পাপাচার থেকে আত্মরক্ষা করে সম্পূর্ণরূপে সৃষ্টিকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ করাই রমজানের আহ্বান।

এই রহমতের মাসের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহ পাকের অনন্ত অসীম রহমত দ্বারা সিক্ত হয় থাকে। অঝোর বৃষ্টিপাতে মৃত শুষ্ক জমিন যেমন শস্যশ্যামল ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, তেমনি মাহে রমজানের রোজা দেহ, মন ও আত্মাকে কলুষমুক্ত করে পবিত্র করে।

গুনিয়াতুত তালেবীন’ গ্রন্থে রমজান সম্পর্কিত আলোচনায় বর্ণনা আছে, ‘রমজান’ শব্দটি আরবি, এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি হরফ। প্রত্যেকটি হরফ এক একটি অর্থ নির্দেশ করেছে। যথা ‘রা’ হরফ দ্বারা বোঝায় ‘রেদওয়ানুল্লাহ’ বা আল্লাহর সস্তুষ্টি। ‘মীম’ হরফ দ্বারা বোঝায় ‘মাগফিরাতুল্লাহ’ বা আল্লাহ প্রেম ও ভালবাসা। আর ‘নুন’ দ্বারা ‘নাওয়াতুল্লাহ’ বা আল্লাহর দান। উল্লেখিত সবই রোজার মধ্যে অর্জন করা যায়।

‘The Cultural History Of Islam’ গ্রন্থে লেখক বলেন, ‘The fasting of Idlam has a wonderful teaching for stabling social unity, brotherhood and equality. It has also an excellent teaching for building a good moral character অর্থাৎ সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইসলামের রোজায় রয়েছে এক অভাবনীয় শিক্ষা। উত্তম নৈতিক চরিত্র গঠনের এক চমৎকার শিক্ষাও এতে রয়েছে।

রমজানের রোজা মুসলমানকে সত্যবাদী করে। সকল অনিষ্ট হতে পবিত্র রাখে এবং সত্যভাষী ঈমানদার মুসলমানে পরিণত করে। রোজাদারের মাঝে থাকে না কোনো অহংকার ও আত্মশ্লাঘা। মুক্ত হয় কপটতা থেকে। রোজার দ্বারা মানুষ এমন মর্যাদার অধিকারী হবে, যেখানে অগ্রপশ্চাৎ একই রকমের হবে। মানুষ তার কথা ও কাজে আস্থা স্থাপন করবে। তার চরিত্রে সততা, বিশ্বস্ততা ও মৌলিক বুনিয়াদ পরিদৃষ্ট হবে।

x