পারি না!

আনন্দময়ী মজুমদার

শনিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
59

 

শিশুরা পারি নাকথাটা শেখে পরিবেশ থেকে। ছেলেটা কিছু শেখাতে গেলে এবং কারো গুণপনা বর্ণনা করলে আগেভাগে বলে রাখে আমি তো অতো ভালো না।বা আমি এটা পারি নাবা আমি কোনোদিন এটা পারব না

যেসব জিনিস সে ঘোষণা করে পারবে না বলে, ঠিক সেগুলোকে পারে, কয়দিনের অভ্যেসের পরে।

পারিও না এ কথাটি বলিও না আর, দেখলাম দিদার কথায় এ ছড়াটা আওড়াচ্ছে সেদিন।

ছড়াটার সরলীকরণের জন্য এর মোক্ষম মেসেজ মার খেয়ে গেছে। করো অথবা করিও না এই দুই ভাগে জীবনকে শাদাকালো উপদেশে কি ভাগ করা যায়?

কেন পারিবে না, তাহা ভাব বারবার’ দ্বিতীয় লাইনের ফাঁকে ঢুকে দেখলাম, এটাই আসল কথা।

কেন পারিবে না এর জবাব নাকি আছে আমাদের নিজেদের সম্পর্কে সীমাবদ্ধ বিশ্বাসের মধ্যে।

নিজের সম্পর্কে আপনার সীমিত ধারণা কী?’ এ হেন প্রশ্নের সামনাসামনি হয়ে গুনতে বসলাম।

অনেক দিন নিজের সম্পর্কে ধারণা ছিল আমি ইম্প্র্যাক্টিকাল। কথাটা বলে বলে গল্পটাকে সত্যি করে তোলা গেছে মনে মনে। আমি অন্যমনস্ক এটা শুনেছি অনেকের কাছে। সংখ্যাতাত্ত্বিক ভাবে দেখি যারা বলছেন, তাদের জরুরি ব্যাপার ভুলে যাবার প্রবণতা অনেক বেশি আমার চেয়ে। ভুলো বিজ্ঞানী বলে একটা কথা চালু আছে। বিজ্ঞানের পেপার লিখতে তাঁকে যা যা মনে রাখতে হয়, তা যদি সকলের হত। তাহলে হয়েছিল।

এদিকে গরু চরানো, ঘাস খাওয়ানো, কতো ধানে কত চাল গুনে গুনে গুদামে রাখা, গুদাম থেকে বাজারে নেওয়া, বিক্রি করা, মহাজনের সুদ গুনে শোধ করা, চারাগাছের বীজতলা তৈরি, বৃষ্টিতে চাষ, জলরোদ ঠেঙিয়ে ধান আগলে রাখা, পঙ্গপাল ঠেকানো সব করেও দেখি চাষীকে লোকে বলে চাষা। ও কী জানে?’

চাষি শুনে বলেন, আমি মুখ্যুসুখ্যু বোকা মানুষ, কী আর জানি?

কারো কারো সীমাবদ্ধ ধারণা, তাঁরা পরীক্ষায় ফেলকরা টাইপের। সব পরীক্ষা পাশ করে এখনো তাঁরা ফেল করার ভয় পায়।

নিজের সম্পর্কে সীমাবদ্ধ ধারণাগুনতে গিয়ে দেখি আঙুলে কুলাচ্ছে না। এত গল্প আমাদের সঙ্গে চুম্বকের মত আটকে গেছে।

ভেবে দেখি, মেয়েরা কেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানে পড়ে না। রকেটবিজ্ঞানী হয় না। বিয়ের পরে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। মাইনে কম হলেও কাজ করতে থাকে। ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করে। নিজের বুদ্ধিকে পাশের সমস্ত ছেলের চেয়ে কম মনে করে। মেনে নেয় তাদের জীবনে আমোদ, খেলা, শরীরচর্চার কোনো জায়গা থাকা জরুরি না। তারা টেকনিকাল ব্যাপারে কম বুদ্ধি ধরে। তাদের কথার কোনো দাম নেই। তাদের দান সংসারে এমনিতেই প্রাপ্য। কৃতজ্ঞতা বা স্মরণে রাখার যোগ্য তারা নয়। চেহারা সুন্দর না হলে তাদের কেউ কদর করবে না। তাদের বিশ্রামের দরকার নেই। তাদের দুনিয়া উদ্ধার করতে হবে।

ইত্যাদি তালিকা একটু ওলোটপালোট করে নিলে সকলের হাতেই কিছু সীমাবদ্ধ ধারণা উঠে আসবে।

শিখছি, এগুলোর বীজ আমাদের চিন্তার মধ্যে উড়ে এসে পড়েছে আর লালিত হয়েছে। বিশ্বাসগুলোকে আমরা বাস্তব করে তুলেছি। এগুলো আমাদের দোষের নয়। এই গল্পগুলোকে সম্পাদনা করে পালটে প্রকাশ করা যায়।

x