তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় : মহৎ শিল্পস্রষ্টা

শনিবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
14

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী মহিমায় অভিষিক্ত ঔপন্যাসিক। প্রথম জীবনে কাব্যচর্চা করলেও প্রধানত গল্প ও উপন্যাসে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে। সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে তিনি ঔপনিবেশিক ভারতের শৃঙ্খলমুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন। আজ এই মহৎ শিল্পস্রষ্টার ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই বীরভুমের লাভপুর গ্রামে। কলকাতায় কলেজে পড়াকালীন মাহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক আদর্শ, বিশেষ করে অসহযোগ আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার এখানেই ইতি ঘটে। সমাজ সেবার লক্ষ্যে তিনি জড়িয়ে পড়েন কংগ্রেসের রাজনীতিতে। পরবর্তীসময়ে কলকাতায় স্থায়ী হন। বাংলা উপন্যাসের শ্রুতকীর্তি এই শিল্পীর রচনায় গান্ধীর আদর্শের প্রভাব লক্ষ করা যায়। তাঁর প্রধান কাহিনিগুলোর পটভূমিকা রাঢ় অঞ্চল, এখানকার অধিবাসীদের জীবন সংগ্রাম, দুঃখ-বেদনা প্রভৃতি। তাঁর সকল রচনারই প্রধান অনুষঙ্গ জীবন প্রত্যয়, মানুষের মহত্ত্ব ও মানব জীবনের প্রতিষ্ঠা। সমাজের রূপ-রূপান্তর ও মানুষের শ্রেণিগত বিবর্তন, এসবের প্রতিক্রিয়া তাঁর সাহিত্যের বৈভব। ব্যক্তিজীবনের নানামুখী অভিজ্ঞতা তারাশঙ্করের রচনায় এনেছে বৈচিত্র্য। মাটি ও মানুষকে তিনি ভালোবেসেছেন অকৃপণভাবে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহের মধ্যে রয়েছে : ‘রাইকমল’, ‘কবি’, ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘হাঁসুলিবাঁকের উপকথা’, ‘মন্বন্তর’, ‘হারানো সুর’, ‘সন্দীপন পাঠশালা’, ‘আরোগ্য নিকেতন’, ‘কীর্তিহাটের কড়চা’, ‘অরণ্য-বহ্নি’, ‘সপ্তপদী’, ‘অভিযান’ প্রভৃতি। তাঁর বেশ কিছু কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র। ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কালজয়ী এই সাহিত্যিক প্রয়াত হন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। এ সময় তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গঠিত ‘বাংলাদেশ সহায়ক শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী সমিতি’র সভাপতি ছিলেন আমৃত্যু।

x