ইতিবাচক

নাজমুস সাকিব রহমান

মঙ্গলবার , ১৪ মে, ২০১৯ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
34

আপনি যদি আনম্যারিড মেয়ে হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো বিয়ে। একটা বিয়ে ঘিরে যত আয়োজন থাকুক, এটা যে কোনো সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ বেশিরভাগ সময় আপনার বিয়েটা এমন একজনের সঙ্গে হতে পারে, যাকে আপনি ভালো করে চিনেন না। অপরিচিত একজন। কাজেই স্বীকার করুন, বিয়ে দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। আর এই জটিলতার কারণে আপনার সঙ্গীকে ‘ফাইট ক্লাব’ সিনেমার ন্যারেটরের মতো লাগতে পারে।
তো, আপনি যেহেতু আনম্যারিড মেয়ে, আমি আপনাকে বলছি, একজন পুরুষকে বিয়ে করার আগে তার কোন অভ্যাসগুলো আপনার যাচাই করে নিতে হবে-
এক, আপনাকে প্রথমে দেখতে হবে, আপনি যাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, তিনি ন্যারো মাইন্ডের লোক কিনা। এ ধরনের লোককে আপনি সহজ ভাষায় ছোটলোকও বলতে পারেন। কিন্তু আমি সংকীর্ণ মনের লোকই বলতে পছন্দ করবো। না হলে আপনি আমাকে অসভ্য ভাবতে পারেন।
মনে রাখবেন, এ ধরনের কাউকে বিয়ে করলে আপনি অবশ্যই বেকায়দায় পড়তে যাচ্ছেন। সংকীর্ণ মনের অধিকারীরা যে কোনো কিছু নেগেটিভভাবে দেখতে পছন্দ করে। এ-কারণে আপনার পছন্দের মানুষের সংকীর্ণতা থাকলে ভাবতে হবে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ মানে অনেকবার।
আর একটি আদর্শ বিয়ের জন্য আপনার মতো ইতিবাচক ও আনম্যারিড মেয়ের কখনোই বাংলাদেশের গলির মতো ন্যারো মাইন্ডের লোক পছন্দ করা ভাল নয়।
দুই, এন্টি এনিমলস। আপনি যাকে বিয়ে করবেন, তিনি যদি পোষা-প্রাণীর প্রতি যত্নবান না হন, এবং তাদের ভালো না বাসেন, তাহলে তিনি খানিকটা ওয়েস্টার্ন সিনেমার নায়কদের মতো। তার হৃদয়ে ভালোবাসার অভাব রয়েছে। এটুকু নিশ্চিত হলে আপনি তাকে বিয়ে নাও করতে পারেন।
আর যদি তিনি পোষা-প্রাণী পছন্দ করে থাকেন, তাদের প্রতি যত্নশীল হন, মনে রাখবেন, লোকটা শুধু আপনি নন, ভারতীয় অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতের সাথেও সংসার করার ক্ষমতা রাখেন। বিশ্বাস করুন, কঙ্গনা রনৌতের চেয়ে ঝগড়াটে নারী বর্তমান পৃথিবীতে খুব একটা নেই। অভিনয়ের বাইরে তিনি মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সময় কাটাতে পছন্দ করেন।
তিন, আপনার পছন্দের লোকটির যদি নিয়ম ভাঙার অভ্যাস থাকে, মনে রাখবেন তাকে বিয়ে করা যাবে না। মাথায় রাখতে হবে, প্রত্যেকটা সম্পর্ক কিছু নিয়ম তৈরি করে। আর আপনার সঙ্গী যদি সেই নিয়মগুলোর প্রতি যত্নবান না থাকেন, তাহলে আপনি মানসিকভাবে যন্ত্রণা পাবেন। বিয়ে তখন আপনার কাছে দিল্লীর কিং মির্জা গালিবের মত হয়ে যাবে।
জানেন, এই কবি দাম্পত্য ও তার শহরকে নিয়ে কী রসিকতা করেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, দিল্লী হচ্ছে একটা কারাগার, আর আমি এই কারাগারের কয়েদী।
চার, আপনি নিশ্চয়ই এ ধরনের লোক অনেক দেখেছেন, যারা কথায় কথায় কসম খায় এবং সেই কসম ছোটবেলায় যেভাবে রোজা ভাঙ্গতো, সেভাবে ভেঙ্গে ফেলে। যেন প্রমিজের কোনো অর্থ নেই। আপনার পাত্র যদি এ ধরনের অর্থহীন কেউ হয়, তাহলে তাকে বিয়ে না করে আরো কিছুদিন আনম্যারিড থাকতে দিন। একইসঙ্গে তাকেও, যিনি নিজেকে সত্যজিৎ রায় মনে করেন। বুঝলেন না? সত্যজিৎ রায়ের জায়গায় ‘পারফেক্ট’ শব্দটা বসিয়ে দিন।
পাঁচ, সেই পুরুষকে আপনার কখনো বিয়ে করা ঠিক নয়, যার অযুহাত দেয়ার অভ্যাস রয়েছে। আপনি অবশ্যই জানেন, মানুষের তিনটা হাত। ডানহাত, বামহাত, অযুহাত। এর মধ্যে যারা তিন নম্বর হাতটা ব্যবহার করে, তারা হয়তো কখনোই আপনার যোগ্য নন। মনে রাখবেন, আপনি সবসময় কারো স্ত্রী হতে চেয়েছেন, কারো ক্লাস টিচার হতে চাননি।
ছয়, আপনি যতই কম কথা বলুন অথবা নিজেকে চেপে রাখুন, মাঝে মধ্যে এমন কিছু সময় আপনার জীবনে আসতে পারে, আপনার কথা বলার ইচ্ছে হবে। তাই আপনি যাকে বিয়ে করবেন, তার থাকতে হবে কথা এগিয়ে নেয়ার ক্ষমতা। কিন্তু তিনি যদি সংবেদনশীল না হন, তাহলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে টম ক্রুজ অভিনীত কিছু সিনেমা দেখে নিন। এই ফিল্মস্টার প্রায় প্রতিটি সিনেমায় একই এক্সপ্রেশন দিয়ে থাকেন। ভেবে দেখুন, পাথর বিয়ে করবেন কিনা।
সাত, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, কাউকে ভালোবাসা খুব চমৎকার ব্যাপার। কিন্তু ছায়ার মতো একসঙ্গে লেগে থাকা ভাল নয়। প্রতিটি মানুষের কিছু স্পেস প্রয়োজন। এমনকি বিয়ের পরেও। তাই আপনি যাকে বিয়ে করবেন, তিনি যেন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রামের ফলোয়ারদের মতো আঠালো জাতীয় কিছু না হন। যদি আপনার পছন্দের লোকটির এমন অভ্যাস থাকে, তাহলে একজন আনম্যারিড মেয়ে হিসেবে আপনার দরকার একটি ছুটির দিন। সেদিন আপনি শুধু নিজেকে প্রিন্সেস ডায়ানা ভাববেন। উনার মৃত্যুর পেছনেও পাপারাজ্জি ছিল।
এছাড়া আপনার পুরুষটি যদি ট্রয়ের সেই প্রিন্সের মতো হন, তাহলে আপনাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে হতে পারে। আপনার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মনে আছে? উনি জুতা বদলাতে ভুলে গিয়েছিলেন। কস্টিউম না বদলানোর এ ইম্যাচিউর ঘটনা প্রথমবার জানার পর আপনি নিশ্চয়ই তাকে মনে মনে ছাগল ডেকেছেন। শুনুন, এ ধরনের লোকগুলো কখনোই ভালো স্বামী হতে পারে না। কারণ তাদের উপর নির্ভর করা যায় না।
কাজেই একটি আদর্শ বিয়ের জন্য এতক্ষণ যা যা বললাম, সবই মাথায় রাখা জরুরি। আর আপনি যাকে বিয়ে করবেন, তার মধ্যে যদি ওপরে উল্লেখ করা কোনো অভ্যাস থাকে, তাহলে অনর্থক ‘ম্যাট্রিঙ’ সিনেমার জটিলতায় ঢোকার দরকার নেই। একজন আনম্যারিড মেয়ে হিসেবে আমি আপনাকে বলবো, আনম্যারিডই থাকতে পারেন। এখন পর্যন্ত ইতিবাচক থাকার এটাই একমাত্র উপায়। বিয়ে আজ পর্যন্ত কাউকেই সুখী রাখতে পারেনি।

x