যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্রবিভাগ। সোমবার দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। খবর বিডিনিউজের।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে অবৈধ অভিবাসনের ওপর ট্রাম্পের দমনপীড়ন শুরু হওয়ার পর থেকে বৈধ ভিসা থাকার পরও নজিরবিহীন সংখ্যক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নীতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাচাইসহ কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স–এ এক পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রবিভাগ এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে।
এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী ভিসা আছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের ২ হাজার ৫০০ বিশেষায়িত ভিসাও আছে। আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে আমরা এই দুর্বৃত্তদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া অব্যাহত রাখব। পররাষ্ট্রবিভাগের উপ–মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা বাতিলের প্রধান চারটি কারণ হল, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় এবার ভিসা বাতিলের হার ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।
টমি বলেন, আমেরিকার মাটিতে থাকা সব বিদেশি নাগরিক দেশটির আইন মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে একটি কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তাদের ভিসা দ্রুত বাতিল নিশ্চিত করবে এই কেন্দ্র। এর পাশাপাশি বিদেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বা ওয়াশিংটনের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন এমন আবেদনকারীদের বিষয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ভিসা এবং গ্রিন কার্ডধারীরাও এখন কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের আচরণের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কারণে অনেকেরই বহিষ্কার হওয়ার ঝুঁকি আছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি এবং হামাস–পন্থি কাজ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।












