২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান

আজ যোগ দেবেন পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে তুলে ধরবেন 'চট্টগ্রাম নিয়ে নিজের পরিকল্পনা' এর আগে অংশ নেবেন ইয়ুথ পলিসি টকে

মোরশেদ তালুকদার | রবিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

শনিবারের কথা। তখন রাত পৌনে ৮টা। নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’র সামনে শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়ক লোকে লোকারণ্য। সবার কণ্ঠে ‘তারেক রহমান আসছে, বীর চট্টলা জেগেছে’সহ নানা স্লোগান। এ উচ্ছ্বাস ও আবেগ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য। তাঁকে বরণ করে নিতে শীত উপেক্ষা করে এসেছেন তারা। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও এ কাতারে ছিলেন সাধারণ মানুষ। তারা এসেছেন তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে।

রাত পৌনে ৯টার দিকে মানুষের ভিড় এড়িয়ে ধীরে ধীরে তারেক রহমানকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সম্বলিত লালসবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসটি এসে পৌঁছায় রেডিসন ব্লু’র সামনে। এ সময় নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ হয়। তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তুলেন পুরো এলাকা। তাদের ভালোবাসার জবাবে তারেক রহমান হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। দেখান ‘ভি’ চিহ্ন। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি১৪৭ নম্বর ফ্লাইটে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ২০ বছর পর পা রাখেন চট্টগ্রামের মাটিতে। বিমানবন্দর থেকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে তিনি সরাসরি হোটেল রেডিসন ব্লুতে পৌঁছান। এ হোটেলে রাতযাপন করেন তিনি।

তারেক রহমান আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। এ সমাবেশে ‘১০ লক্ষাধিক’ লোকের সমাগম ঘটাতে চায় দলটি। সমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ডে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশে ২০০ মাইক ও ১০টি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মাঠের বাইরে থাকা লোকজন তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে পারেন। এদিকে সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে সকাল ৯টায় রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর পৌঁছুলে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও হারুনুর রশীদ, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

সমাবেশে কী বার্তা থাকবে : বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠের নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান চট্টগ্রামবাসীর সামনে তুলে ধরবেন নিজের নানা পরিকল্পনা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্লান’। বিএনপি নেতারা বলছেন, এবার বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে ঘিরে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার আজাদীকে বলেন, তারেক রহমান ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী সভার জন্য এসেছেন। দেশের মানুষ আশা করছেন, তার বক্তব্যে সামগ্রিক বিবেচনায় আগামী দিনের জন্য জনগণের প্রতি একটা মেসেজ থাকবে।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে জনগণের শক্তিশালী অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ। এই সমাবেশের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পক্ষে জনতার ঐক্য আরো সুদৃঢ় হবে।

চট্টগ্রাম১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান আজাদীকে বলেন, তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্লান’। এ প্লানের বড় বিষয় তিনি উন্মোচন করেছেন। সেটা হলো কৃষক কার্ড, প্রান্তিক লেবেলে মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড। এ যাবতকালে কোনো রাষ্ট্রনায়ক এমন উদ্যোগ নেননি। উনি এখনো রাষ্ট্রপ্রধান হননি, কিন্তু তার আগেই দেশের মানুষের জন্য ভিশন ও প্লান করে দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। এটা বিশাল ব্যাপার। রাষ্ট্রনায়কোচিত এই প্ল্যানে সাধারণ মানুষের যেন উপকার হয়, সেটাই উদ্দেশ্য। প্রতিটি মানুষকে ঘিরেই তার উন্নয়ন পরিকল্পনা। এটা হলে চট্টগ্রামবাসীও উপকৃত হবে। সাথে চট্টগ্রামবাসীর বাণিজ্যিক রাজধানীর যে ক্ষুধা এবং চট্টগ্রামবাসীর আরো অনেক কিছু চাওয়ার আছে, যেগুলো ৩১ দফা ও তার প্ল্যানে সন্নিবেশিত হবে বলে মনে করি।

উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা যা বললেন : গতকাল সন্ধ্যায় রেডিসন ব্লু’র সামনে শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ সড়কে অপেক্ষারত লোকজনের মধ্যে ছিলেন মনজুর আলম। বন্দর এলাকা থেকে আসা মনজুর একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তিনি আজাদীকে জানান, বিএনপির কোনো পদপদবী নেই তার। সক্রিয়ভাবে রাজনীতিও করেন না। কিন্তু জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভালো লাগে। তারেক রহমান আসবেন খবর পেয়ে তাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে এসেছেন রেডিসনের সামনে। তিনি বলেন, বিকাল ৩টা থেকে অপেক্ষা করছি। তারেক রহমানকে এক নজর দেখলে অপেক্ষার কষ্ট স্বার্থক হবে। আজকের পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে সামনের সারিতে বসার জন্য রাতটা কাজীর দেউড়ি এলাকায় কাটিয়ে দেবেন বলে জানান তিনি।

বাগমনিরাম ইউনিট বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. হানিফ আজাদীকে বলেন, ২০ বছর পর চট্টগ্রামে নেতা আসছেন। তাকে বরণ করতে এসেছি। লোহাগাড়া থেকে এসেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু। তিনি বলেন, তারেক রহমানের প্রতি যে আবেগ ও ভালোবাসা কাজ করছে তাতে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই দূর থেকে হলেও নেতাকে এক নজর দেখার জন্য এসেছি। আজকের সমাবেশে চট্টগ্রাম১৫ সংসদীয় আসন থেকে ২০০ গাড়ি করে লোকজন আসবেন বলে জানান তিনি।

২০ বছর পর এসেছেন চট্টগ্রামে : সর্বশেষ ২০০৫ সালে দুইবার চট্টগ্রাম আসেন তারেক রহমান। ওই বছরের ৬ মে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর প্রায় তিন মাস পর ২৪ জুলাই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত উত্তর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। বিষয়টি আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার।

জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ যখন চট্টগ্রাম আসেন তখন ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। গত ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ওই হিসেবে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রাম এলেন তিনি।

এদিকে আজ পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ শেষে সড়কপথে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। বিকাল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা সোয়াগাজী হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ, রাতে সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর রাত ২টায় গুলশান বাসভবনে ফিরবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা