১৯৪৮ সালের মার্চ থেকেই প্রতিরোধ

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তান সরকারের আরবি হরফ প্রচলনের বিরুদ্ধে ১৯৪৮ সালের মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে। ৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সভায় আরবি হরফ প্রচলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। সভায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংসদ গঠন করা হয়। এতে মো. নুরুল ইসলাম সভাপতি এবং ইলা দাশগুপ্তা ও আশরাফ সিদ্দিকী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া নজরুল ইসলাম, মমতাজ বেগম, রিজিয়া খাতুন ও খলিলুর রহমানসহ অন্যদের নিয়ে বর্ণমালা সাবকমিটি গঠিত হয়।

এদিকে এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ১২ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ছাত্রদের একটি বিক্ষোভ মিছিল পরিষদ ভবনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। ১৯৪৯ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের ভাষা কমিটির পক্ষ থেকে নঈমুদ্দিন আহমদ সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত লোকের হার শতকরা ১২ থেকে ১৫ জন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষিতের হার শতকরা ৫ জনের কম। আরবি বর্ণমালার দোহাই দিয়ে এই ১৫ জন শিক্ষিতকে কলমের এক খোঁচায় অশিক্ষিতে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে গোটা পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা বানচাল হয়ে যাবে। বাস্তবে ঘটছিল তাই। পাকিস্তানের রাজধানী হলো পশ্চিম পাকিস্তানে। সব কেন্দ্রীভূত হচ্ছিল পশ্চিমে। পূর্ব বাংলা যে ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ হয়ে উঠছে, সেই বোধও গ্রাস করছিল এ অঞ্চলের মানুষকে। বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়। পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষ ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার প্রেরণা পায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপ চাইলেন শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো
পরবর্তী নিবন্ধবন্দরে আজ থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি