১৬ থানায় সিএমপির একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান

৬৫ অপরাধী গ্রেপ্তার অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৩ মার্চ, ২০২৬ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে নগরীর ১৬ থানায় একযোগে পরিচালিত অভিযান ‘এস ড্রাইভে’ মোট ৬৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক ব্যবসায়ীর বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর গত রোববার রাত ১১টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। সেখানে শহরের বিভিন্ন স্থানে একযোগে ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়। সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন থানায় থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে রাতে এ অভিযান চালানো হয়; নাম দেওয়া হয় ‘এস ড্রাইভ’। গতকাল সোমবার বিকালে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো অভিযান বিবরণীতে জানানো হয় গত রবিবার ১ মার্চ দিবাগত রাতে নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানা এলাকায় ১৩ জন, সদরঘাটে ৩ জন, চকবাজারে ৪ জন, বাকলিয়ায় ৩ জন, খুলশীতে ২ জন, বায়েজিদে ৮ জন, পাঁচলাইশে ৩ জন, চান্দগাঁওয়ে ৬ জন, পাহাড়তলীতে ১ জন, আকবরশাহে ২ জন, ডবলমুরিংয়ে ৫ জন, বন্দরে ১ জন, ইপিজেডে ৪ জন, পতেঙ্গায় ৮ জন এবং কর্ণফুলীতে ২ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৪১ জন ছিনতাইকারী, পাঁচজন চাঁদাবাজ, দুই জুয়াড়ি, পাঁচজন মাদক কারবারী ও কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্য রয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় এলজি, তিনটি ছোরা, শর্টগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সর্বমোট ৪৬৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে ১০০ পিস, বায়েজিদ থানা এলাকা থেকে ১৪ পিস, বন্দর থানা এলাকা থেকে ৪৭ পিস পরিত্যক্ত অবস্থায়, ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ২০০ পিস এবং পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে ১০৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নগরীর চকবাজার থানা এলাকায় চন্দনপুরা স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গত শনিবার ভোরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গত রবিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী নগর জুড়ে অভিযান চালানোর কথা জানান। যে অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘এস ড্রাইভ’। সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি বর্ষণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মন্তব্য করে বলেন, এ ঘটনা নিয়ে নগরবাসীর শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা দূর করে আস্থা অর্জনের জন্য এ অভিযান পরিচালনার কথা জানান তিনি।

অভিযানের ব্যাপারে তিনি বলন, একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি স্থানে হানা দিলে যাতে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে। অপরাধীরা যেন বুঝতে পারে, তাদের সব প্রাইভেসির জায়গায় আমরা হাত দিয়েছি। সে কারণে ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারীদের জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : মীর হেলাল
পরবর্তী নিবন্ধসাবেক এমপি দিদারের আয়কর নথি জব্দ