চোরের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ব্যাগে রেখেছিলেন স্বপ্না রানী ধর। কিন্তু বাঁচতে পারেননি। চোর স্বর্ণালংকার, মোবাইলফোনসহ সেই ব্যাগটিই চুরি করে নিল। নগরীর বাকলিয়ার শহীদ বশরুজ্জামান গোল চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ভিকটিম নারী স্বপ্না রানী ধর বাকলিয়ায় থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে এবং ৭ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত চোরকে শনাক্ত পূর্বক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার চোরের নাম নুর হোসেন কালু। সে বাঁশখালীর জলদি সরল বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল।
পুলিশ জানায়, ৫৮ বছর বয়সী স্বপ্না রানী ধর আনোয়ারা সদরের বাসিন্দা। ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশা করে তিনি নগরীর বাকলিয়া থানাধীন শহীদ বশরুজ্জামান গোল চত্বর এলাকায় আসেন। তার সাথে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগ ছিল। ব্যাগটি রাস্তার উপর রেখে তিনি ফোনে কথা বলছিলেন। কথা বলা শেষে তিনি দেখতে পান যে, ব্যাগটি যথাস্থানে নেই। ব্যাগটির ভেতরে সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ এবং একটি মোবাইল ফোন, নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা ও কিছু কাপড়চোপড় ছিল। মূলত চোরের খপ্পর থেকে বাঁচতে স্বপ্না রানী ধর স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মালামাল ব্যাগে রেখেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল যে, ছোট ভাইয়ের বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকারগুলো তিনি গায়ে পড়বেন এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের স্থল ক্লাবে যাবেন।
পুলিশ আরো জানায়, স্বপ্না রানী ধর থানায় মামলা করার পর বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে বাকলিয়া থানাধীন বাস্তুহারা এলাকায় চোর নুর হোসেন কালুর হদিস মেলে। তার কাছ থেকে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চুরিকৃত স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার সাব–ইন্সফেক্টর মোবারক হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের কাছে একটি ক্লু ছিল, সেটি হচ্ছে চোরের গায়ে লাল টি–শার্ট ছিল। এ ক্ল্যু’র ভিত্তিতে এবং তথ্য–প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা চোরকে শনাক্ত করি। এ ঘটনায় আরো একজন জড়িত জানিয়ে মোবারক হোসেন জানান, তার নাম ইউনুছ। আমরা তাকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি নুর হোসেন কালুর সাথে ঘটনাস্থল এলাকায় ছিলেন। নুর হোসেন কালু ও ইউনছুরা মূলত চুরি–ছিনতাই করে বেড়ায়। এটি তাদের পেশা। গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুর হোসেন কালুর বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, চুরি ও অস্ত্র আইনে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাকলিয়া থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।