১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে এদিন বিকেল সোয়া ৫টায় নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে হবে সমাবেশ। লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়স্থ বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে লংমার্চ ও সমাবেশকে ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি’ উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ লংমার্চ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের কারণে জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এসব সংকট নিরসন এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা। জনগণের মতামত ও গণরায়কে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট অবিলম্বে নিরসন করতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শিল্প–কারখানা, ব্যবসা–বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত ও সুলভ মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জাগপা চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম নগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহ, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফজলুল করিম জিহাদী, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম।












