হাসপাতালগুলোতে হামের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে হবে

| শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত ‘চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে রোগীর চাপ, উপসর্গ নিয়ে নির্ধারিত বেডের দ্বিগুণ রোগী ভর্তি, টিকা ক্যাম্পেইনের পরেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালের ৫০ বেডের হাম ব্লকে ভর্তি রোগী শতাধিক। এছাড়া দ্বিতীয় তলার শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের ১৬ বেডের ব্লকেও রয়েছে দ্বিগুণ রোগী। জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে একই বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম ছোঁয়াছে রোগ হওয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি কোনো শিশু যদি হাম আক্রান্ত হয়েও থাকে, তার সংস্পর্শে অন্য শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্ধারিত বেডের মধ্যে তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশুর বয়স ২ বছরের কম। এরমধ্যে আবার অনেক শিশুর টিকা দেয়ার বয়সও হয়নি। আবার অনেক শিশুকে হামের টিকা দেয়নি, অনেকে এক ডোজ দিয়েছে। একদমই দেয়নি এরকম শিশুও রয়েছে।

হামের প্রকোপ বাড়ার কারণে গত ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামরুবেলার টিকা দেয়া হয়। মাসব্যাপী চলা সেই ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রাম উপজেলা ও নগরীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে হামরুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। তারপরেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এছাড়া অনেক শিশু পরীক্ষার বাইরে থাকায় হামের সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হলেও পরীক্ষার বাইরে থাকায় বা পরীক্ষা না হওয়ায় তাদের হাম হয়েছে কিনা তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞার মতামত তুলে ধরা হয়েছে। তাতে তিনি বলেন, হামের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে আসা অনেক শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে। হামের রোগীদের আমরা আলাদা করে চিকিৎসা দিচ্ছি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। হামের কারণে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো গুরুতর জটিলতা হতে পারে। শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং টিকা দান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা বলেন, হাম হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। অভিভাবকদের কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখলে শিশুকে নিরাপদ রাখা সহজ হয়। যেমনশিশুকে আলাদা রাখতে হবে। অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখলে সংক্রমণ কমে। ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিতে হবে; জ্বর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে; পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে; এটা শরীর দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে; চোখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে: পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়ানো কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সামগ্রিকভাবে যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তাতে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে। তাই নজরদারি শক্তিশালী করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও মোকাবিলা করা এবং ভালো মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।

তাঁরা বলেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে শুধু কেন্দ্রভিত্তিক টিকাদান যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সংগঠিত ক্যাম্পেইন। কার্যকর সমন্বয়, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত টিকা সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী নজরদারি এবং সক্রিয় জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিই হাম নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পথ। হাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার সুযোগসুবিধা বাড়াতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬