হাম : সারা দেশে ৩ মে থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

প্রথম ধাপে টিকা পাবে ১২ লাখ শিশু : ইউনিসেফ

আজাদী ডেস্ক | সোমবার , ৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ৩ মে থেকে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার আগে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকির দুই সিটি কর্পোরেশন ও দুই জেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তেসরা মে থেকে, অর্থাৎ আগামী মাসের তিন তারিখ থেকে সারা দেশের সকল জেলা, সকল উপজেলায় একযোগে আমরা এই টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় রোববার (গতকাল) টিকাদান শুরু হয়েছে। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে ইউনিসেফ জানিয়েছে, প্রথম ধাপে শুরু করা হামরুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৩০ উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১২ লাখের বেশি শিশু টিকা পাবে। খবর বিডিনিউজের।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ এপ্রিল থেকে চারটি সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে দেশের বাকি সব জেলা ও উপজেলায় একযোগে হামের টিকা দেওয়া হবে।

৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে ৮২ শতাংশ রোগী ৫ বছরের কম হওয়ায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের গ্রুপটিকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের পরে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে হামের টিকা পাবে ১২ লাখ শিশু : প্রথম ধাপে শুরু করা হামরুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৩০ উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১২ লাখের বেশি শিশু টিকা পাবে বলে তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ। গতকাল সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৮টি জেলার এসব উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু করেছে সরকার।

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহায়তায় জরুরি এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইউনিসেফ গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ধাপে ধাপে এ টিকাদান কর্মসূচি দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও বাকি জেলাগুলোতে সম্প্রসারণ করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ বলেছে, ঢাকা ও কঙবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ ও উচ্চঝুঁকির এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কঠোর প্রচেষ্টা চালানো হবে। জরুরি এ টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত টিকা দেওয়ার প্রচেষ্টার সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে। এটি টিকাদানের লক্ষ্য পূরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণে বিল পাস
পরবর্তী নিবন্ধরামু-মহেশখালীতে টিকা পাবে ১ লাখ ২০ হাজার শিশু