খাগড়াছড়ির পানছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এই অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের মুখে বন্ধ রয়েছে সড়কের নির্মাণ কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় সড়ক নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর মসজিদ–সংলগ্ন এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। উপ–ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। শুরু থেকে সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কের মেকাডম পরিষ্কার না করেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করে পিচ ঢালাই বা কার্পেটিংয়ে কাজ শুরু করে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এমনটি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাশেম ও মো. মোসলেম জানান, একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চারা হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছে। অফিসের লোকজনকে অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল, মো. হোসেনসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দুই নাম্বার কাজ। কথা বললে সে ক্যাডার লাগিয়ে দেয়। হাফ ইঞ্চিও কার্পেটিং নাই। গরু হাঁটলে রাস্তা দেবে যাচ্ছে। এটা কিসের সলিং? উপ–সহকারী প্রকৌশলীর সামনে ঠিকাদার চুরি করছে। তিন মাসও সড়কটি ঠিকবে না। সামনে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে সড়কটি ধুয়ে চলে যাবে। সড়কের মাটি বাইরে বিক্রি করছে। আমরা প্রমাণ দিতে পারব। সাদা দুই নাম্বার ইটে কংকর। দীর্ঘদিন পর সড়কটি নির্মিত হলেও কাজের মান খুব খারাপ। সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপ–ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অফিস যেভাবে কার্যাদেশ দিয়েছে আমি সেভাবে কাজ করেছি। কার্যাদেশে সড়কের কার্পেটিং ২৫ এমএম বা ১ ইঞ্চি ধরা আছে সেভাবে করেছি। আমি স্থানীয়দের হুমকি দিইনি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ, কাজে অনিয়মের অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ মিছিল করেছে। ইতোমধ্যে ৪শ মিটার কাজ হয়েছে। কাজে কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি হলে আমরা সেটা যাচাই করব। যেটুকু রাস্তা কার্পেটিং হয়েছে সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হবে। সড়কের কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ এমএম’র কম থাকলে নতুন করে কার্পেটিং করতে হবে। এছাড়া তদন্তে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।












