হল্যান্ড থেকে

বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া | শনিবার , ২৮ মার্চ, ২০২৬ at ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দিনাজপুরে নিজ হাতে কোদাল নিয়ে মাটি কেটে দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচির’ সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে এই কর্মসূচির আওতায় তিনি এসেছিলেন কক্সবাজার। উদ্বোধন করেছিলেন ‘পাতালি খাল খনন প্রকল্পের’। এই উপলক্ষে তিনি সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে ২২ সদস্যের এক সাংবাদিক দল। দলের বেশির ভাগ সিনিয়র রিপোর্টার। খালকাটা কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ভোর সকালে। তার আগের দিন বিকেলে প্লেনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এলেন কক্সবাজার। বিকেলের দিকে আমরা তাঁর অপেক্ষায়, পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলের নিচে। এক সময় তিনি এলেন, উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সাথে এক এক করে পরিচিত হলেন এবং এরপর আমাদের সাথে নিয়ে তিনি এগিয়ে যান মোটেলের মটেলের ছাদে। সেখানে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশী পূর্ণদৈঘ্য ছায়াছবি ‘দি ফাদার’ প্রদর্শনের। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই ছায়াছবি প্রেসিডেন্ট দেখবেন সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে। এক দল সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে দেশের প্রেসিডেন্টের ছায়াছবি দেখা যদ্দুর জানি এই প্রথম ও শেষ। ছবি দেখা শেষে সবাইকে সাথে নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিচে ডিনারটেবিলে বসলেন। খাওয়া দাওয়া চলে রাত পৌনে বারোটা পর্যন্ত, পাশাপাশি চলে নানা আলোচনা, প্রশ্নত্তোর। চমৎকার এবং স্মৃতিমাখা ব্যতিক্রমধর্মী ছিল কক্সবাজারের সেই সন্ধ্যা। সাংবাদিক হিসাবে আমার সুযোগ হয়েছিল সেই দলের সদস্য হিসাবে প্রেসিডেন্ট জিয়ার একেবারে মুখোমুখি বসে সেই সন্ধ্যার আড্ডায় অংশ নেবার। সে আজ থেকে কম করে হলেও ৪৫ বছর আগের কথা। সে বর্ণনায় ফিরে আসছি একটু পর। এখন আসি বর্তমানে।

বাবার পদাংক অনুসরণ করে পুত্র তারেক রহমান, দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ মার্চ পাঁচ দশক বাদে কোদাল হাতে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন মাটি কেটে। টেলিভিশনের পর্দায়, পত্রপত্রিকায়, দেশ বিদেশের নানা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাবার মত মাথায় ক্যাপ, তাতে লেখা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, হাতে কোদাল, পরনে জিন্সের প্যান্ট, গায়ে অফহোয়াইট পোলোশার্ট, ক্যাডস পায়ে খালের ঢালুতে নেমে যেতে। উৎফুল্ল জনতার উপস্থিতিতে মাটি কেঁটে উদ্বোধন করলেন দেশব্যাপী খাল খননুপুনঃখনন কর্মসূচি। স্থানীয় জনগণ ফিরে গেলেন সেই ১৯৭৭ সালে যখন জিয়াউর রহমান গ্রামীণ জলপথ পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে একই খালের তীরে দাঁড়িয়ে শত শত স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কোদাল হাতে খাল কাটায় যোগ নিজে অংশ নিয়েছিলেন খাল খনন কর্মসূচিতে।কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত সাহাপাড়া খালটির সাথে আজ তার অতীতের জলপথের সাথে কোন মিল নেই বললেই চলে। বছরের পর বছর ধরে এর বৃহৎ অংশ শুকিয়ে গেছে। যেখানে একসময় পানি বয়ে যেত তা এখন শুকিয়ে গেছে, সেখানে জমেছে মাটির অসম স্তূপ। বর্ষাকালে পানির সীমিত প্রবাহের কারণে প্রায়শই আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই জরাজীর্ণ খালটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘খালের বর্তমান দশা আমাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তারেক রহমান তার বাবার মতো এটি পুনরায় খনন করতে এসেছেন। এবার যদি খালটি পুনরুদ্ধার করা যায়, তাহলে হয়তো আমাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।’

) ফিরে দেখা: এই দৃশ্য আমাকে টেনে নিয়ে যায় অতীতের অনুরূপ আর একটি দিনে। মানুষ স্মৃতিকাতর, মানুষ স্মৃতিতাড়িত হয়। আমাকেও তারেক জিয়ার এই খালকাটা দৃশ্য কিছুটা স্মৃতিতাড়িত করে তোলে বৈকি। নিয়ে যায় অতীতে। আজকের লেখা সেই প্রসঙ্গে। তখন মাত্র বছর দেড়েক হবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে সাংবাদিকতায় যোগ দিয়েছি। সে ছিল আশির দশকের শুরুর দিককার কথা। দেশের ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ঠিক করলেন দেশের সংবাদপত্রের রিপোর্টারদের নিয়ে তিনি কক্সবাজার যাবেন, উদ্বোধন করবেন ‘পাতালি খাল খনন প্রকল্প’। তখন দেশজুড়ে তার খাল কাটা কর্মসূচি নিয়ে বেশ আলোড়ন, প্রশংসা চলছে। ঠিক হলো কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে তিনি রিপোর্টারদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাবেন, ইনফরলাম আলোচনা করবেন। চট্রগ্রাম থেকে জনা ছয়েক সাংবাদিক (রিপোর্টার) মনোনীত হলেন। তার মধ্যে আমাদের পত্রিকা (দি ডেইলি লাইফ) এর রিপোর্টার হিসাবে আমি, আমাদের ফটোগ্রাফার ইলিয়াস, দৈনিক আজাদী থেকে চিফ রিপোর্টার ওবায়দুল হক (প্রয়াত), দৈনিক স্বাধীনতা থেকে ওসমান গনি মনসুর (পরবর্তীতে পিপলস ভিউ সম্পাদক) এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যুরো চিফ মঈনুল আলম (প্রয়াত, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী আবাস গড়েন এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন)। ডেইলি লাইফের এক্সিকিউটিভ এডিটর নুর সাঈদ চৌধুরী (প্রয়াত) আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের তালিকায় না থাকলেও আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে এলেন সে সময়কার ঝানু ঝানু রিপোর্টারদের কয়েকজন। তাদের মধ্যে সবার নাম এতগুলি বছর পর মনে করতে পারছিনা বলে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। যাদের নাম মনে পড়ছে তারা হলেন, দৈনিক বাংলার হেদায়েত হোসেন মোর্শেদ, দৈনিক সংবাদের আশরাফ খান, বাংলাদেশ টাইমসএর এম আর রুশো। খুলনা থেকে এসেছিলেন দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সম্পাদক লিয়াকত আলী (প্রয়াত) ও তার সাংবাদিক পত্নী। প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে ছিলেন তাঁর প্রেস সচিব কাফি খান। কাফি খান এর আগে ভয়েস অব আমেরিকার জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক। সবার পরিচিত মুখ। যদি স্মৃতি বিট্রে না করে তাহলে বলতে পারি কাফি খান অভিনেতাও ছিলেন। চিত্র পরিচালক আলমগীর কবীরের পরিচালনায় জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছায়াছবি ‘সীমানা সৈকতে’ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। ৯৩ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারে মারা যান।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফর উপলক্ষে গোটা কক্সবাজার জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে সার্কিট হাউসে তিনি রাত কাটাবেন। আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলো পর্যটন কর্পোরেশনের এক চমৎকার মটেলে। যেখান থেকে দেখা যায় বিশাল সমুদ্র সৈকত। প্রায় পাঁচ যুগ আগে কক্সবাজার আজকের মত এত অগোছাল ছিলনা। এলোমেলো, অগোছাল এত মার্কেট, হোটেল, দোকানপাঠ তখন গড়ে উঠেনি। অবশ্য সুখের বিষয়, গেল সপ্তাহে দেখতে পেলাম সৈকত থেকে অবৈধ স্থাপনাগুলো সব গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন দূর থেকে সমুদ্র দেখা যায়। এর পেছনে স্বরাষ্টমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ না থাকলে যে এই অনেকটা ‘অসাধ্য সাধন’ কর্মটি সম্পাদন করা যে হতো না তা বলা বাহুল্য। ক্ষমতায় এসে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্যতম পর্যটনআকর্ষণ এই বিশাল সমুদ্র সৈকতের রূপকে ফিরিয়ে দেবার জন্যে তিনি নিঃসন্দেহে বিশেষ ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। যাই হোক, ঢাকা থেকে সাংবাদিকরা এলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে একই ফ্লাইটে। চট্রগ্রাম থেকে আমরা মাইক্রোবাসে। মোটেলে দুপুরে লাঞ্চ সেরে কিছুক্ষণ নিজ কামরায় কয়েক বন্ধু সাংবাদিকদের সাথে আড্ডা মেরে বিকেলের দিকে আমরা নিচে নেমে গেলাম। মনসুর, ফটোসাংবাদিক ইলিয়াসআমরা প্রায় সমবয়েসী এবং বন্ধু। আমি ইলিয়াস একই কামরায়, মনসুর খুব সম্ভবত ওবায়দুল হক সাহেবের সাথে। অপেক্ষা করছি, বিকেলে প্রেসিডেন্ট জিয়া আমাদের সাথে মিলিত হবেন। নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সবাই নিচে তার জন্যে অপেক্ষা করি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এলেন। আমাদের সবার সাথে এক এক করে পরিচিত হলেন। পরিচয়ের পালা শেষ হলে সবাই মটেলের ছাদে গিয়ে পৌছুলাম। দুসারিতে ভাগ হয়ে আমরা বসলাম। সামনে ছায়াছবি দেখানোর জন্যে বড় পর্দা টাঙানো। তখনও জানতাম না কোন ছবি দেখানো হবে। আমার হাতের বাঁয়ে আইল সীটে বসলেন নূর সাঈদ চৌধুরী, তার ডাইনে আমি, আমার ডাইনে ইলিয়াস। প্রেসিডেন্ট জিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবার সময় আমাদের সারির পাশে এসে ক্ষণিক দাঁড়ালেন। মজার ব্যাপার হলো তিনি নূর সাঈদ চৌধুরীকে এড়িয়ে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’ তার দিকে হাত বাড়িয়ে নিজের পরিচয় দিতেই উনি বললেন, ‘আজ আমরা সবাই মিলে ছবি দেখবো। কেমন হবে?’ ‘খুব ভালো হবে’, বলে তিনি এগিয়ে যান, গিয়ে বসেন সামনে প্রথম সারিতে। উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের চাইতে বয়সে ও দেখতে ছোট বিধায় হয়তো তাঁর নজরে পড়েছিল। হয়তো ভেবেছিলেন, এই পুঁচকে ছোঁড়াটা কে?

তখন সন্ধ্যা। পর্যটন হোটেলের ছাদ থেকে চোখে পড়ে কাছের সমুদ্র। যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। সেদিন ছিল চমৎকার জোৎস্না রাত। জোৎস্নার ছটা তীরের দিকে ধেঁয়ে আসা ঢেউয়ের উপর আছড়ে পড়ছে, আর আশপাশের গোটা পরিবেশকে এক অপূর্ব মায়াবী আবেশে ভরে দিচ্ছে। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। ভাবতে অবাক লাগে আজ এতগুলি বছর পরও ওই সন্ধ্যার দৃশ্য মনের ভেতর কেমন গেঁথে রয়েছে। আরো মজার ব্যাপার হলো, ‘দি ফাদার’ ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যও ছিল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এক সময় ছাদের উপর টাঙানো বড় পর্দায় ভেসে আসে সমুদ্রের ঢেউ। পাশ ফিরে তাকাতেই চোখে পড়ে জীবন্ত সমুদ্র। কানে ভেসে আসে সমুদ্রের গর্জন। সমুদ্রের তো না, ঢেউয়ের গর্জন। সে এক অদ্ভুত আনন্দানুভূতি। বলে কয়ে শেষ করা যাবেনা। অনেকটা পিন পতন নীরবতায় ছবি দেখলাম আমরা সবাই। প্রেসিডেন্ট জিয়াও। রাত নটা নাগাদ ছবি দেখা শেষ হলে প্রেসিডেন্টের সাথে আমরাও নিচে নেমে পড়ি। সেখানে সবার জন্যে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। বোধকরি সাংবাদিকদের সাথে একসাথে বসে বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপ্রধানের এই প্রথম ও শেষ ছায়াছবি দেখা। অন্তত আমার জানা মতে। ডিনার টেবিল ঘিরে আমরা সবাই বসেছি। প্রেসিডেন্টের ডান পাশে দৈনিক সংবাদের আশরাফ ভাই (পরে দৈনিক খবর) তখন তিনি দেশের অন্যতম তুখোড় রিপোর্টার। বয়সে তরুণ। প্রেসিডেন্টের ঠিক মুখোমুখি আমি। সেই সময়টায় দেশজুড়ে বিদেশী পণ্য বর্জনের আহবান চলছে সরকারি পর্যায়ে। দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। আশরাফ ভাই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জিজ্ঞেস করলেন, এটি বাস্তবায়ন কবে হবে? তখন আশরাফ ভাইয়ের হাতে আঙুলের মাঝখানে ধরা জ্বলন্ত ফাইভ ফিফটি ফাইভ সিগারেট। প্রেসিডেন্ট তার সিগারেট ধরা আঙ্গুলটা সামান্য তুলে ধরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি যে সিগারেট খাচ্ছেন সেটা কোথাকার?’ ‘বিদেশী’, আশরাফ ভাইয়ের উত্তর। শুনে জিয়াউর রহমান বললেন, ‘আপনারা হলেন দেশের সচেতন শ্রেণী। আপনারা যদি বিদেশী পণ্য বর্জন না করেন ও দেশি পণ্য ব্যবহারে সচেতন না হোন, তাহলে সাধারণ জনগণ থেকে কী আশা করেন দেশি পণ্য ব্যবহারের।’ এরপর উপস্থিত আমাদের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলেন, ‘এখানে আপনারা ২২ জন রয়েছেন। সবার পরনে বিদেশি কাপড়। কেবল আমি ছাড়া।’ লক্ষ্য করি, প্রেসিডেন্ট জিয়ার পরনে পাতলা সাদা পাঞ্জাবি। গলায় সরু সোনার চেইন। আমাদের দিক থেকে আর কোন উত্তর নেই। বোল্ড আউট। (চলবে)

১৮২০২৬

লেখক : সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

পূর্ববর্তী নিবন্ধযমজ শিশু
পরবর্তী নিবন্ধহালদা নদীতে অভিযান ১২শ মিটার জাল জব্দ