হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের যেকোনো মূল্যে খুঁজে বের করা হবে

নিহত যুবদল নেতা মাসুদের পরিবারের পাশে এমপি হুমাম

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ২ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের খুনের পেছনে বালি মাফিয়ারা জড়িত বলে দাবি করেছেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হুমাম কাদের চৌধুরী। গতকাল বুধবার বিকালে নিহত মাসুদের বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দাবি জানান এবং হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের দ্রুত গ্রেপ্তারের তাগিদ দেন। একই কথা জানিয়ে ইতিপূর্বে তিনি সংসদেও বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জনপ্রিয় নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবৈধ বালি সিন্ডিকেট বা বালি মাফিয়ারা সরাসরি জড়িত। বালি মহলের অবৈধ ব্যবসায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খুনের পেছনে যারা অর্থায়ন করেছে এবং যারা মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড, তাদের যেকোনো মূল্যে খুঁজে বের করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে। প্রয়োজনে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে প্রশাসন চিরুনি অভিযান চালাবে, কিন্তু বালি মাফিয়াদের কোনো রেহাই নেই।

গতকাল বুধবার বিকালে তিনি নিহত মাসুদের বাসভবনে যান। এসময় তার সাথে স্ত্রী সামাঞ্জার খানও উপস্থিত ছিলেন। হুমাম কাদের চৌধুরী মাসুদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। তিনি মাসুদের চার বছরের একমাত্র কন্যা সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন এবং মাসুদের স্ত্রীর সাথে কথা বলে যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন। পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি নিহত যুবদল নেতার কবর জিয়ারত ও মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাউজানের চুয়েট সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে সিএনজি টেক্সি যোগে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে মাসুদকে। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি র‌্যাব৭ রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া নিহতের মানিব্যাগ চুরি করা ব্যক্তিসহ আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো অধরা। প্রশাসন পলাতক বাকি আসামিদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅর্থ কষ্টে থাকা ৯ জন পেলেন তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা