শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। সেই গভীর শোক আর আতঙ্ক বুকে নিয়েই এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন ইরানের মেয়েরা। কুইন্সল্যান্ডের রবিনার সবুজ মাঠে ইরানের মেয়েরা যখন ফুটবলীয় যুদ্ধে নামে, তখন তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আর যুদ্ধের খবর। ম্যাচ কিংবা সংবাদ সম্মেলন সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইরানের ভেতরের অবস্থা। এমন মানসিক চাপের মধ্যে খেলায় মনোযোগ দেওয়া দুঃসাধ্য হলেও, তারা মাঠে নেমেছিলেন দৃঢ় চিত্তে। যদিও মাঠের লড়াইয়ে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার দিয়ে এশিয়ান কাপের যাত্রা শুরু হয়েছে ইরানের। তবে স্কোরলাইনের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা। স্বদেশের চরম সংকটের দিনে বুকে পাথরচাপা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনেকেই প্রশংসার চোখে দেখছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া মাঠের লড়াইয়ে অনুমিতভাবেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। র্যাঙ্কিংয়ে ৬১তম স্থানে থাকা ইরানকে শুরু থেকেই কোণঠাসা করে রাখে তারা। পুরো ম্যাচে প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখলে ছিল কোরিয়ার মেয়েদের। তারা গোলমুখে ৩০টি শট নেয়, যার ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। এছাড়া ৮টি কর্নার আদায় করে নেয় তারা। বিপরীতে ইরানের গোলকিপারকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে গোলবার সামলাতেই। রক্ষণে বারবার চিড় ধরায় আক্রমণভাগেও ধার ছিল না ইরানের। গোলমুখে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে তারা, আর বল দখলে ছিল মাত্র ২১ শতাংশ। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে ফরোয়ার্ড চো ইউ–রি গোল করে কোরিয়াকে লিড এনে দেন। প্রথমার্ধে ১–০ তে পিছিয়ে থাকা ইরান দ্বিতীয় অর্ধে হজম করে আরও দুটি গোল। ৫৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিম হাই–রি। এরপর ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে কোরিয়ার বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাকি দুই প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া। ইরানের বিপক্ষে এই বড় জয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে দক্ষিণ কোরিয়া।









