স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পে ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার কাজের অনুমোদন

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ

অবশেষে চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পে ১৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৭০ টাকার একটি কাজের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৪৩তম সভায় প্রস্তাবটি ‘না’ করে দেয়া হয়েছিল। উক্ত প্রস্তাবে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে ৬ তলা একাডেমিক সার্কেল বিল্ডিং এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইনসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রস্তাবনা করা হয়েছিল। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত প্রকল্পটি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং শেলটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন হবে। কিছুটা বিলম্বে হলেও প্রস্তাবটি অনুমোদনের সুপারিশ করায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু অনেকটা সহজ হবে।

সূত্র বলেছে, নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন হামিদচরে কর্ণফুলী নদীর তীরে ১০৬ দশমিক ৬৬ একর জমিতে দেশের একমাত্র পাবলিক মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১৩ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ২০১৯ সালে। জমি অধিগ্রহণের পর নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে সম্পন্ন হয় গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণ। এরপর নদী থেকে তোলা বালিতে ভরাট করা হয় পুরো এলাকা। ২০২৪ সালের ৪ মার্চ স্থায়ী ক্যাম্পাসের অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন নকশায় নির্মাণ করা হচ্ছে অনেকগুলো ভবন। ইতোমধ্যে মোট ১৯টি ভবনের মধ্যে ১৮টির নির্মাণকাজ চলছে। একাডেমিক সার্কেল নির্মাণ কাজটি শুরু করা হয়নি। নানা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সরকারি ব্যয় অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হলেও গত ২৮ অক্টোবর তাতে সুপারিশ করেনি সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে করে ভবনটি ঠিক কবে নাগাদ নির্মাণ শুরু করা যাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সূত্র বলেছে, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু ২৪ এর ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান, বন্যা পরিস্থিতি, বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় সময়মতো কাজ হয়নি। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৪৫ শতাংশের মতো কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ ঠিক কবে নাগাদ শেষ করা যাবে তা নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, মোট ১৯টি ভবনের মধ্যে ১৮টির নির্মাণ কাজ গড়ে ৪০ শতাংশের মতো সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে বিভিন্ন ভবন। এতে করে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এখানে শ্রেণি কার্যক্রমসহ বসবাস করার ব্যাপারে দেখা দিয়েছে আগ্রহ। কিন্তু নানা দীর্ঘসূত্রতায় ঠিক কবে নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাসটি চালু হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি। একাডেমিক সার্কেল বিল্ডিংটি নির্মাণের ব্যয়ে সরকারের অনুমোদনের সুপারিশ এক্ষেত্রে বড় ধরনের একটি প্রতিবন্ধকতা দূর হল বলেও সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেজিস্ট্রেশন শেষে জমির দলিল স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর
পরবর্তী নিবন্ধসামাজিক মাধ্যমে অস্ত্রসহ ছবি প্রকাশ, যুবক গ্রেপ্তার