বোয়ালখালীতে এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ফুলতলীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ বিয়ের আয়োজন চলছিল। এ সময় কনের বাবাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটিয়া এয়াকুবদন্ডী এলাকার এক যুবকের সাথে বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডীর এক স্কুল ছাত্রীর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক ছিল শুক্রবার। কয়েকদিন ধরে চলছিল এর প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার রাতে কনের বাড়িতে মেহেদি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। অপরদিকে কমিউনিটি সেন্টারে চলছিল বিয়ের রান্নাবান্নার প্রস্তুতি। কিন্তু খবর পেয়ে দলবল নিয়ে রাত ১২ টার দিকে কনের বাড়ির মেহেদি অনুষ্ঠানে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মামুন।
এ সময় কনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক প্রমাণিত হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় সব আয়োজন। এছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী ছাত্রীর বাবাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ওই ছাত্রীর বিয়ে নয় এমন অঙ্গীকার নেওয়া হয়।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে কমিউনিটি সেন্টার হতে খালি মুখেই ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেক আমন্ত্রিত মেহমানকে। বিষয়টি এলাকায় বেশ কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন বলেন, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ওই ছাত্রীর বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের অভিভাবক, বর, আয়োজক ও নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে আইনিভাবে কোনো প্রকার আপোষ নেই।